প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদকের অবৈধ বিস্তার রোধ ও মাদক কারবারিদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এক সুবিশাল ও নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই দীর্ঘ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গাঁজা চাষের বাগান শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা হয়েছে। এই সফল অভিযানে আনুমানিক ৭০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের গাঁজার চারা, বীজ ও প্রক্রিয়াজাতকৃত পাতাসহ আনুষঙ্গিক বিপুল মাদকসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পর ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যৌথ বাহিনীর এমন তড়িৎ ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে পুরো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক পাচারকারী চক্রের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাবনায় যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নবম শ্রেণির ২ ছাত্র নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যানুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সীমান্তঘেঁষা সোনামুড়া থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত নম্বর কমলনগর ঘাটিঘর এলাকায় এই সম্মিলিত অভিযান শুরু করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী যৌথ দলের মধ্যে একযোগে অংশ নেয় স্থানীয় সোনামুড়া থানা পুলিশ, সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিএসএফ-এর ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর)-এর ১১তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। এলাকাটি দুর্গম ও ঝোপঝাড়বেষ্টিত হওয়ায় বিশাল এলাকাজুড়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জওয়ানরা একের পর এক অবৈধ গাঁজার চাষের ক্ষেত ও বীজতলার সন্ধান পেতে থাকেন। দীর্ঘ প্রায় ৮ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে পরিচালিত এই শ্বাসরুদ্ধকর চিরুনি অভিযান শেষ হয় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে।
অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনী নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে দেখতে পায় যে, কমলনগর ঘাটিঘর এলাকার নির্জন স্থানে মোট ২২টি পৃথক বীজতলায় বাণিজ্যিকভাবে বিশাল পরিসরে গাঁজার চারা রোপণ করা হয়েছিল। সেখান থেকে সব মিলিয়ে আনুমানিক ৭ লাখ তাজা ও উদীয়মান গাঁজার চারাগাছ উদ্ধার ও উপড়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে আইনি নিয়মাবলি পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে উদ্ধারকৃত চারাগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত করা হয়। কেবল চারাগাছ ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয়নি যৌথ বাহিনী; চাষাবাদের জন্য মজুত রাখা প্রায় ৫০ কেজি তাজা গাঁজার বীজ এবং প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে বিপণনের জন্য প্রস্তুত রাখা প্রায় ৫০০ কেজি শুকনো গাঁজার পাতাও জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল মাদকদ্রব্যও আইনি প্রটোকল অনুসারে ঘটনাস্থলেই আগুন দিয়ে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৫ আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
সোনামুড়া থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দলের প্রারম্ভিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো অভিযানে উদ্ধার ও ধ্বংস করা মাদক দ্রব্যাদি ও চাষকৃত চারাগাছের আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। সীমান্ত এলাকার অবৈধ মাদক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিশাল অভিযান একটি বড় ধরনের সাফল্য বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ মাদক চাষ, পাচার কিংবা মজুদ বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও তৎসংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের যৌথ ও সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত রাখা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।