শাহজাদপুরে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

শাহজাদপুরে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেত্রী, দেশীয় চলচ্চিত্রের বহুমুখী উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতীক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সম্মানিত চেয়ারপারসন ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করার উদ্দেশ্যে উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা শাখা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গত শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) বিকেলে শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির নিজস্ব কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয়ের সুপরিসর হলরুমে এই তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানস্থলটি এক আবেগঘন রাজনৈতিক পরিবেশের রূপ ধারণ করেছিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জোগায়।

আরও পড়ুন: জেমিনির এআই কনটেন্টে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাহ বা রাখার সুবিধা আনছে গুগল

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত শনিবার বিকেলের দিকে শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং এতে প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শুরুর প্রথমাংশে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথপরিক্রমা, দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অদম্য সাহসিকতা ও আপসহীন ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। বক্তারা অত্যন্ত আবেগময় ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। নানা প্রতিকূলতা, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো দেশের সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করেননি। তাঁর এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও বর্ণাঢ্য জীবনের নানা অবদানের কথা নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় এই আলোচনা সভা থেকে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিল বিএনপি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদানকারী ও অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সকল নেতাই এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সুযোগ্য সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমির হোসেন সবুজ, দলের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. আল আমিন হোসেন, এবং উপজেলা যুবদলের গতিশীল সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এছাড়া যুবদলের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্মানিত যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. মাসুম রানা। কৃষকদের অধিকার আদায়ের অগ্রদূত উপজেলা কৃষক দলের সম্মানিত সভাপতি মো. আবু বকর রঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বাঘা তাঁদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। এ ছাড়া উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সম্মানিত প্রভাষক আব্দুস সালাম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সমগ্র অনুষ্ঠানের তদারকি ও দোয়া পরিচালনা করেন। পৌর যুবদলের প্রাণপুরুষ আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সজল, দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান মিজান ও মো. রহমত আলী এবং পৌর ছাত্রদলের তেজস্বী সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান রকিসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তোলেন।

আলোচনা সভার শেষাংশে বক্তারা সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন যে, বর্তমান দেশের ক্রান্তিলগ্নে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এবং জনগণের অধিকার আদায়ের চলমান আন্দোলনকে সফল করতে হলে ভেদাভেদ ভুলে সকল নেতাকর্মীকে ভেদাভেদ ভুলে এক এবং অভিন্ন সূত্রে গ্রথিত হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক আদর্শ, দেশপ্রেম এবং ত্যাগের মহিমাকে নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে ও জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় থাকার সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অতীতে যেভাবে এই জনপদের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সকল দমনপীড়ন ও নির্যাতন উপেক্ষা করে দলের পাশে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তারা একইভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একটি সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন বেগম খালেদা জিয়া আজীবন লালন করেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলকে একসাথে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয় এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে।

পরিশেষে, অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্যায়ে সমগ্র দেশ, জাতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সম্মানিত চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করে একটি বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। ওলামা দলের নেতৃবৃন্দের পরিচালনায় মোনাজাতের সময় পুরো দলীয় কার্যালয় জুড়ে এক শোকাবহ ও গম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সকল নেতাকর্মী অত্যন্ত বিনম্র চিত্তে হাত তুলে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে মরহুমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন। একই সাথে দেশের সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি, জনসাধারণের কল্যাণ এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির মজবুত ঐক্যের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়, যা উপস্থিত সকলের মনে এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও নতুন রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা জুগিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটায়।

সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন