শাহজাদপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

শাহজাদপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সুফিয়ান নোমান / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাঙালির জাতীয় পরিচিতি, সাহিত্যিক ঐতিহ্য এবং সাম্যবাদী চেতনার অন্যতম প্রবক্তা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি ও জীবনদর্শনকে তরুণ প্রজন্মের মননে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে উদযাপিত 'নজরুল বর্ষ' অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশেষভাবে সাজানো মুক্তমঞ্চে এই উদ্বোধনী পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য প্রদীপ প্রজ্বলন ও বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা কবির সাহিত্যকর্ম ও বিপ্লবের বাণী ধারণ করে আগামীর দিনগুলোতে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তান বিক্রি, বাবা গ্রেপ্তার

শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের নিখুঁত পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সোমবার ভোর থেকেই সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তিক ও চরাঞ্চলীয় এলাকা সহ পৌর সদরের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করে। জাতীয় কবির বিস্তৃত সৃষ্টিসম্ভারকে উপজীব্য করে প্রতিযোগীদের আবৃত্তি, নৃত্য এবং একক ও দলীয় সংগীত পরিবেশন সহ কয়েকটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়। রঙিন পোশাকে সাজানো মুক্তমঞ্চে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত নজরুল গীতি, কবির বিদ্রোহী ও দেশাত্মবোধক কবিতার প্রাঞ্জল আবৃত্তি এবং ছন্দময় নৃত্যশৈলী উপস্থিত শত শত দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মুগ্ধতায় ভাসিয়ে দেয়। প্রতিটি পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা তাদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা ও গভীর অনুরাগের স্বাক্ষর তুলে ধরে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন যে, কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে এক শাশ্বত ও নির্ভীক কণ্ঠস্বর। তাঁর কাব্যমালা, গান ও লেখনী তৎকালীন সময়ে যেমন সাধারণ মানুষকে মুক্তির চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, তেমনই আধুনিক যুগেও তা আমাদের সামাজিক সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়। তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে তরুণ প্রজন্মকে অপসংস্কৃতির গ্রাস, মোবাইল আসক্তি, মানসিক বিষণ্ণতা ও মাদকের মারাত্মক অভিশাপ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহিত্যচর্চা ও সুস্থধারার সাংস্কৃতিক অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যালয় পর্যায় থেকে নজরুলের মতো কালজয়ী সাহিত্যিকের জীবন ও কর্ম নিয়ে চর্চা করা হলে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় হবে এবং তারা প্রকৃত অর্থেই আলোকিত মানসিকতার সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত

উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উদ্বোধনী মঞ্চে উপজেলার সরকারি বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক দলসমূহের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, প্রথিতযশা সাংস্কৃতিক সংগঠক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, প্রবীণ সংগীতশিল্পী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করার সময় নজরুল বর্ষের বার্তা শাহজাদপুরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক উদ্যোগকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শাহজাদপুরের মাটি এমনিতেই সাহিত্য ও নন্দনতত্ত্বের এক সমৃদ্ধ চারণভূমি। সেই ঐতিহাসিক পলিমাটিতে সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শাহজাদপুরের শিল্প-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় এক নতুন মাত্রিক সংযোগ ঘটাবে।

প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব উদ্বোধনের পর নির্ধারিত বিচারকমণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্বের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শুরু হয়। স্থানীয় পর্যায়ের খ্যাতিমান সংগীত শিক্ষক ও আবৃত্তিশিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারক প্যানেল প্রতিটি পারফরম্যান্স সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়ন করেন। আয়োজকদের সূত্রে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ করে চূড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় সম্মাননা, ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। শাহজাদপুরের কোমলমতি শিশুদের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং নজরুলীয় সাম্যবাদ ছড়াতে উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী আয়োজন অভিভাবক মহল এবং সমগ্র শাহজাদপুরবাসীর মাঝে ব্যপক প্রশংসা লাভ করেছে।

সূত্র: শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন