প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের সিরাজগঞ্জ অংশে এক আকস্মিক রেল দুর্ঘটনায় রাজধানী ঢাকার সাথে পুরো উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার অন্তর্গত শহীদ এম মনসুর আলী রেলস্টেশন এলাকায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর 'সিল্কসিটি এক্সপ্রেস' ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।
আরও পড়ুন: দেশের বাজারে এসারের ২৭ ইঞ্চির নতুন আলট্রা স্লিম মনিটর, রয়েছে আধুনিক নানা ফিচার
স্থানীয় সূত্রে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। যাত্রা পথে ট্রেনটি সিরাজগঞ্জের সদানন্দপুর এলাকায় অবস্থিত শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে প্রবেশের মুহূর্তে আচমকা বিকট শব্দে ট্রেনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে নিচে নেমে যায়। বগি লাইনচ্যুত হওয়ার সাথে সাথেই ট্রেনের অভ্যন্তরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে চিৎকার শুরু করেন। তবে চালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দ্রুত বুদ্ধিমত্তা ও তৎপরতায় সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের ইমার্জেন্সি চেইন বা শিকল টেনে গতি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে গতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয় ও রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পান শত শত ট্রেনযাত্রী।
দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর নিশ্চিত করে যমুনা সেতু পশ্চিম (সয়দাবাদ) ট্রেন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান জানান, রাজশাহী থেকে রাজধানীমুখী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসটি মনসুর আলী স্টেশনের মূল লাইনে প্রবেশের সময়ই এই যান্ত্রিক ত্রুটি বা চাকা সরে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটির গতি তাৎক্ষণিকভাবে কম থাকায় এবং জরুরি ভিত্তিতে ব্রেক ও শিকল টেনে গাড়ি থামানোর কারণে ট্রেনটি বড় ধরনের উল্টে যাওয়া বা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়। যাত্রীরা অক্ষত থাকলেও ঘটনার পর থেকেই মূল রেললাইন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল লাইনের ওপর বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং লাইন সচল না হওয়া পর্যন্ত এই পথে সকল প্রকার ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলমুখী একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বিভিন্ন মধ্যবর্তী স্টেশনে আটকা পড়েছে। এর মধ্যে দূরপাল্লার বেশ কিছু জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনও রয়েছে। প্রচণ্ড তাপদাহ এবং আকস্মিক এই বিলম্বের কারণে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রেলওয়ে থানা পুলিশ এবং স্থানীয় রেল প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল বা রিলিপ ট্রেনকে খবর দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বগিটিকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে লাইনটি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন রেলের প্রকৌশলী ও টেকনিক্যাল কর্মীরা। যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে রেলযোগাযোগ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আশা প্রকাশ করছে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ইউটিউবের নতুন মনিটাইজেশন নীতিমালা: এআই ভিডিও দিয়ে আয় বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত
রেলপথ হঠাৎ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়া ও পাবনামুখী বহু ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা জরুরি প্রয়োজনে বা চিকিৎসার কাজে রাজধানীতে যাচ্ছিলেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেক যাত্রী বিকল্প উপায়ে সড়কপথে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, তবে এতে বাড়তি ভাড়া ও সময় অপচয়ের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে পরবর্তীতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার অভিযান শেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন পুনর্নির্মাণ করা এবং আটকে থাকা ট্রেনগুলোকে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
সূত্র: নিজস্ব সংবাদদাতা ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।

আল্লাহ সবাইকে এরকম দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করুন
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।