ইউটিউবের নতুন মনিটাইজেশন নীতিমালা: এআই ভিডিও দিয়ে আয় বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত

ইউটিউবের নতুন মনিটাইজেশন নীতিমালা: এআই ভিডিও দিয়ে আয় বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বিশ্বজুড়ে ভিডিও শিয়ারিংয়ের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন বিধিমালার ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ভিডিওর পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন ও কড়া শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় এখন থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানহীন ও কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও মনিটাইজেশনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। প্রধানত মূল ধারার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বকীয়তা রক্ষা, দর্শকদের উন্নত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা এবং প্ল্যাটফর্মের সার্বিক গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে ভয়াবহ দাবানল: তেল আবিব ও জেরুজালেমের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ, জোর উদ্ধার অভিযান

হালনাগাদ করা নীতিমালার তথ্যানুসারে, মূল তিনটি ক্যাটাগরির এআই-নির্ভর ভিডিওকে ‘অপ্রামাণ্য বা ইন-অথেনটিক কনটেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এগুলোকে বিজ্ঞাপন রাজস্ব পাওয়ার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, একই ধাঁচের ও বারবার ব্যবহৃত স্ক্রিপ্ট বা ভয়েস ব্যবহার করে অটোমেটেড উপায়ে তৈরি ভিডিওসমূহ এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। দ্বিতীয়ত, দর্শকমনে অযাচিত আবেগ সৃষ্টি, বিভ্রান্তি তৈরি কিংবা কাউকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলার অভিপ্রায়ে পরিকল্পিতভাবে নির্মিত কন্টেন্ট থেকে আয় করার সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও আইনি পরামর্শের মতো সংবেদনশীল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মানুষ রূপী কৃত্রিম ডিজিটাল অবয়ব বা এআই অ্যাভাটার ব্যবহার করে নির্মিত যেকোনো ধরনের পরামর্শমূলক ভিডিও মনিটাইজেশন হারাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে কোনো ধরণের মৌলিক চিন্তা বা মানবীয় স্পর্শ ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার কম মেধার ভিডিও তৈরি করে প্রকাশের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এ জাতীয় কন্টেন্টের কারণে প্ল্যাটফর্মের সাধারণ দর্শকরা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল এবং বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনদাতাদের আস্থাও ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। এ কারণে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, গণহারে প্রকাশিত তথ্যহীন ও কৃত্রিম ভিডিওর চেয়ে মানুষের তৈরি স্বকীয়, তথ্য সমৃদ্ধ এবং সুনির্দিষ্ট মূল্য সংযোজনকারী কনটেন্টকেই তারা এখন প্রাধান্য প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৫ আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

তবে এই কড়াকড়ির অর্থ এআই প্রযুক্তির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সব ভিডিওকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। যেসব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এআই প্রযুক্তিকে একটি সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মৌলিক, শিক্ষণীয়, বিনোদনমূলক এবং নীতিমালাসম্মত কন্টেন্ট উপহার দেবেন, তাদের চ্যানেলে আগের মতোই মনিটাইজেশন চালু থাকবে। মূলত যান্ত্রিক উপায়ে তৈরি মানহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে ভরা ভিডিওর বিস্তার রুদ্ধ করাই এই নতুন সিদ্ধান্তের প্রধানতম অভিপ্রায়।

ইউটিউবের পক্ষ থেকে আসা এমন বড় পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে ভিডিও নির্মাণের ক্ষেত্রে গ্লোবাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে শর্টকাটে আয় করার সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় এখন থেকে ভিডিওর সততা, তথ্যগত নির্ভুলতা এবং ক্রিয়েটিভিটির ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এমন পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাজের ধারায় এক বিশাল রূপান্তর আনবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন