সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন করল মন্ত্রিসভা

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন করল মন্ত্রিসভা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে কর্মরত লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক নীতিগত ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নতুন বেতন স্কেলের সুদূরপ্রসারী অনুমোদন প্রদান করা হয়। দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য রক্ষা এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই বিদ্যমান বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। মন্ত্রিসভার এই অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারি প্রশাসনে কর্মরত সকল ধাপে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে, যা সার্বিক প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় হাফেজ হৃদয় হত্যায় ২ জনের   ও ৩ জনের যাবজ্জীবন

নতুন এই অনুমোদিত নবম বেতন কাঠামোর সার্বিক রূপরেখা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে যে, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের বৈষম্য দূরীকরণে ও বেতন কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের জাতীয় বাজেট ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর সাময়িক আর্থিক চাপ সুষম করতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে উক্ত নতুন বেতন বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়াটি এককালীন কার্যকর না করে মোট তিনটি পৃথক ধাপে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। অর্থ বিভাগের তৈরি করা এই বাস্তবায়নের রূপরেখা অনুযায়ী প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী দুই বছরে অবশিষ্ট অংশ সমন্বিতভাবে প্রদান করা হবে। ফলে একদিকে যেমন সরকারি চাকুরিজীবীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, অপরদিকে জাতীয় অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতাও বজায় থাকবে।

নবম পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক পুনর্নির্ধারিত বেতন হারের সুনির্দিষ্ট বিবরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ গ্রেড-১-এ কর্মরত আমলা ও কর্মকর্তাদের মূল বেতন বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্নে অবস্থিত অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সরকারের এই গ্রেডভিত্তিক পুনর্নির্ধারণের ফলে ওপরের স্তর থেকে নিচের স্তর পর্যন্ত সকল ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মচারী তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন স্তরে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা ধার্য করার ফলে তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের পারিবারিক আর্থিক স্বচ্ছলতা অনেকাংশে সুনিশ্চিত হবে এবং জীবনযাত্রার নূন্যতম মান বজায় রাখা সহজ হবে।

আরও পড়ুন: সংসদে ভূমি অফিসে ঘুষ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড়, মন্ত্রীর জবাব

জাতীয় বেতন কাঠামোর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও মানবিক সংযোজন হিসেবে নবম পে-স্কেলে প্রথমবারের মতো বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক 'প্রতিবন্ধী সন্তান' ভাতা চালুর অনন্য সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সেবায় নিয়োজিত কর্মচারীদের যেসব সন্তান শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি, তাদের যথাযথ দেখভাল, চিকিৎসা এবং বিশেষ শিক্ষা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সরকার এই ব্যতিক্রমী অনুদান কাঠামোর প্রবর্তন করেছে। নতুন অনুমোদিত পে-স্কেলের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের মাসিক বেতনের অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা হিসেবে লাভ করবেন। সামাজিক নিরাপত্তার এই মানবিক ও প্রগতিশীল উদ্যোগকে সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এটিকে সরকারের একটি জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনুমোদিত নবম পে-স্কেলের সকল পূর্ণাঙ্গ অনুচ্ছেদ, অর্থ বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট বণ্টন এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের স্পষ্ট সময়সূচি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আজ সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানী ঢাকার তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি (প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট) সম্মেলন কক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে নতুন এই পে-স্কেলের বিস্তারিত রূপরেখা দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। সরকারি সেবা খাতকে আরও বেশি গতিশীল, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করার জন্য নতুন কাঠামোর বেতন স্কেল একটি নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিশ্লেষকগণ।

সূত্র: মন্ত্রিসভা বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন