কাহালুতে ৫০ পিস টাপেন্টাডলসহ আটক ২ মাদক কারবারি

কাহালুতে ৫০ পিস টাপেন্টাডলসহ আটক ২ মাদক কারবারি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

মাদকবিরোধী নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে বগুড়ার কাহালু উপজেলায় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংবেদনশীল উপাদান টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ও নৈশকালীন সময়ে থানা পুলিশের একাধিক চৌকস দল উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় এই সুনির্দিষ্ট অভিযান জোরদার করে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই আকস্মিক ও কার্যকর পদক্ষেপে এলাকা জুড়ে মাদক কারবারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মোট ৫০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হন পুলিশ সদস্যগণ। জনস্বার্থে আয়োজিত এই বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় ওষুধ কেনাবেচার সাথে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে দুই অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এই ধরনের সমন্বিত চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি

পুলিশের বিস্তারিত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে। কাহালু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসিফুজ্জামান তাঁর সঙ্গীয় সশস্ত্র ফোর্স ও চৌকস টিম নিয়ে কাহালু থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বকেয়া ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকদ্রব্য পুনরুদ্ধারের নিয়মিত ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় গোপন মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে যে, উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের অধীনস্থ মালঞ্চা বাজার থেকে ভেটিশোনাইগামী পাকা সড়কের পাশে মা-মুনি জুয়েলার্সের সামনে একজন ব্যক্তি অবৈধ মাদকের চালান হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। প্রাপ্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সন্দেহভাজন হিসেবে এক যুবককে ঘিরে ফেলে আটক করে। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের সামনে আটককৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাশি চালিয়ে তাঁর হেফাজত থেকে সংবেদনশীল ৩০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত প্রথম অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ২৭ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম মো. আব্দুল বারী। তিনি কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের অঘোর মালঞ্চা গ্রামের মো. আফছার আলীর পুত্র এবং তাঁর মাতার নাম মোছা. তাহেরা বানু। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত নেশাজাতীয় বড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রাখার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। পুলিশ উপস্থিত নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত সকল ক্ষতিকর ওষুধ বিধি অনুযায়ী জব্দ করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে আটক আব্দুল বারীকে কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান নিশ্চিত করার পর তাকে থানা হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়। উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারার বিধানমতে একটি বিধিসম্মত মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার কাহালু থানা মামলা নম্বর-০১, তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণনাশের হুমকি, ইসরায়েলে প্রত্যাবর্তন

কাহালু থানা পুলিশের অপর একটি দল একই দিন রাতে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করে। উপজেলার পৌর এলাকার সাঘাটিয়া গ্রামে পরিচালিত এই নৈশ অভিযানে অপর এক মাদক কারবারিকে নিজ বাসভবন থেকে আটক করতে সমর্থ হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মামুন প্রাং (৪৫), তিনি সাঘাটিয়া গ্রামের মৃত তসলিম উদ্দিনের পুত্র। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে তাঁর বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘর তল্লাশিপূর্বক তাঁর নিজ হেফাজত থেকে অতিরিক্ত ২০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ এলাকায় ছদ্মবেশে মাদক বেচাকেনার সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। আটককৃত মামুন প্রাং-এর বিরুদ্ধেও দেশের প্রচলিত কঠোর মাদক আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে টাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে গণ্য হলেও সাম্প্রতিক সময়ে একশ্রেণীর অসৎ ও অপতৎপর চক্র এটিকে মারাত্মক নেশাদ্রব্য হিসেবে তরুণদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এর ফলে সামাজিক শান্তি বিনষ্টের পাশাপাশি উদীয়মান প্রজন্মের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পতিত হচ্ছে। কাহালু থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করার অভিপ্রায়ে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি শতভাগ বাড়ানো হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই মাদক ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও আহ্বান করেছে থানা কর্তৃপক্ষ, যেন যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুততম সময়ে পুলিশের কাছে পোঁছানো যায়।

সূত্র: কাহালু থানা পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় তথ্য।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন