লোডশেডিং দ্রুত কমার আশা: বিদ্যুৎ ব্যবহারে থাকবে সুষম বণ্টন

লোডশেডিং দ্রুত কমার আশা: বিদ্যুৎ ব্যবহারে থাকবে সুষম বণ্টন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সাময়িক অচলবস্থা ও চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ে সরকারের নানা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে একাধিক কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণের বর্তমান নীতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের সময়ে কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা বড় শহরকে অগ্রাধিকার না দিয়ে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বিদ্যুতের তীব্রতা সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। অতীতে কেবল রাজধানী ঢাকাকে সুবিধা দিতে গিয়ে দেশের মফস্বল ও গ্রামগুলোকে টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে রাখা হতো। বর্তমান প্রশাসন সেই পুরনো ধারা পুরোপুরি বর্জন করেছে এবং দেশের সর্বত্র বিদ্যুতের সুষম বন্টন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করায় যুবককে জুতার মালা

বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি ব্যাপক হওয়ায় ঐতিহাসিকভাবেই সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল। তবে দেশের সর্বস্তরের মানুষের নাগরিক অধিকার সমভাবাপন্ন রাখার নীতি গ্রহণ করায় বর্তমান সরকার এই সংকটের ভার একক কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেবে না। গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে রেশনিং প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ভারসাম্য আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

দেশে বর্তমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্তর্নিহিত একাধিক কারিগরি ও বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতার ব্যাখ্যা দেন উপদেষ্টা। প্রাথমিক জ্বালানির চরম ঘাটতি, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক যান্ত্রিক গোলযোগ, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ঝুলে থাকা এবং সঞ্চালন গ্রিডের কাঠামোগত দূরদর্শিতার অভাবকে তিনি এই সংকটের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়াও সময়ের সাথে সাথে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিতরণ ব্যবস্থার ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের তিস্তা ব্যারাজ ও উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন

জাতীয় বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অতীতের লোডশেডিং সম্পর্কিত বিস্তারিত নথিপত্র ও তথ্য শিগগিরই জনসাধারণের সামনে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। বিগত সময়গুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অপচয় ও প্রশাসনিক ভুলত্রুটি কী পরিমাণে ছিল, তা জনসমক্ষে আনা হলে সার্বিক পরিস্থিতি বোঝা সহজ হবে। এই তথ্য প্রকাশ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং সরকারি কার্যক্রমে উচ্চতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া সচল করা এবং অকার্যকর কেন্দ্রগুলো সচল করার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দেশের সঞ্চালন ব্যবস্থার মানোন্নয়নে জরুরি সংস্কার বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছেন। স্বল্প মেয়াদের মধ্যে এই পদক্ষেপগুলোর ফল দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সাময়িক এই প্রাকৃতিক ও কারিগরি অসুবিধা মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উপদেষ্টা জানান।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই নতুন সুষম রেশনিং পদ্ধতির ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃত্রিমভাবে কোনো অঞ্চলকে অন্ধকার না রেখে সার্বিক সংকটকে সার্বজনীনভাবে সামলানোর যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তা দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে স্বল্পতম সময়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রূপ ফিরে পায়।

সূত্র: দিগন্ত বাংলা নিউজ ডেস্ক

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন