প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
মেহেরপুর জেলা শহরের প্রধান কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে নজিরবিহীন স্থবিরতা। প্রতিদিনের মতো সকালে কেনাকাটা করতে এসে খালি হাতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে শত শত সাধারণ ক্রেতাকে। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা তহবাজারে কেনাকাটার বদলে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। স্থানীয় ইজারাদার ও একটি অসাধু চক্রের দীর্ঘদিনের অবৈধ টোল আদায়, অতিরিক্ত খাজনা হরণ এবং পরোক্ষ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কেনাবেচা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এই নজিরবিহীন ধর্মঘটের ফলে জেলা শহরের সার্বিক নিত্যপণ্যের সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার সকাল থেকেই মেহেরপুর শহরের বড়বাজার এলাকার সমস্ত কাঁচামালের দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বেচাকেনা স্থগিত রেখে বাজারের মধ্যবর্তী প্রধান সড়কের ওপর অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এতে বাজারের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। শত শত ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী সড়কের ওপর বসে পড়ে ইজারাদারদের অন্যায্য আর্থিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় বিভিন্ন স্লোগান। তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি হলো—ইজারাদারের নামে পরিচালিত প্রশাসনিক ও আর্থিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং নির্ধারিত সরকারি হারের বাইরে অতিরিক্ত কোনো টোল আদায় করা চলবে না।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে প্রতিবন্ধী যুবক-যুবতীদের জীবিকায়নে ছাগল ও চারা বিতরণ
আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেহেরপুর পৌরসভার অধীনস্থ এই তহবাজারে পণ্য কেনাবেচার ওপর নির্দিষ্ট খাজনা বা টোল নির্ধারণ করে দেওয়া রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ইজারাদারের নিযুক্ত লোকজনেরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করছে। খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে দূরদূরান্ত থেকে আসা কৃষক ও পাইকারদের ওপর অন্যায্য আর্থিক চাপ জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত চাঁদা না দিলে মালামাল জব্দ করা, গালিগালাজ করা এমনকি শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনা ঘটছে। এই আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের অবসানের লক্ষ্যে তারা ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও বাজার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে একটি আল্টিমেটাম প্রদান করা সত্ত্বেও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাধ্য হয়েই ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ী রাজপথে নেমে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট লিখিত আশ্বাস এবং চাঁদাবাজ মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাজারে কোনো দোকান খোলা হবে না বলে তারা হুশিয়ারি দেন।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে বিএনপি নেতা আব্দুল হালিম জিন্নুর ১লা সেপ্টেম্বর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী
এদিকে শহরের মূল কাঁচাবাজার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন পুরো পৌরসভার সাধারণ অধিবাসী ও ক্রেতাসাধারণ। পরিবারের দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে এসে অধিকাংশ মানুষ খালি ব্যাগে চরম হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বিকল্প বড় কাঁচাবাজার না থাকায় জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত খাজনা ও টোলের বোঝা পরোক্ষভাবে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরই এসে পড়ে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি পায়, যার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হতে হয় সাধারণ মানুষকে।
মেহেরপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা চান, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইজারাদারদের আইনবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ করুক এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ন্যায্য টোল আদায়ের বিধান জারি করুক। একটি সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিতামূলক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রশমিত হতে পারে এবং বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অচলাবস্থা নিরসন করাই এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: দিগন্ত বাংলা নিউজ ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।