যমুনা ইকোপার্কে উল্লাপাড়ার ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

যমুনা ইকোপার্কে উল্লাপাড়ার ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক যমুনা নদীর পশ্চিম তীরের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশ বেষ্টিত যমুনা ইকোপার্ক এলাকা থেকে এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ীর নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ প্রশাসন। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সান্ধ্যকালীন সময়ে পার্কের অভ্যন্তরীণ গোলঘরের উন্মুক্ত কাঠের বেঞ্চের ওপর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন দর্শনার্থীরা। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের দেহ উদ্ধার করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। পরবর্তীতে নিহতের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন কাগজপত্র ও পারিবারিক যোগাযোগের সূত্র ধরে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মৃত ব্যক্তি উল্লাপাড়া উপজেলার এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। পর্যটন এলাকায় এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মরদেহের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে স্থানীয় অধিবাসী ও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে গভীর বিস্ময় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে অন্যায্য টোল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাঁচাবাজারে ধর্মঘট

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত নিহতের নাম আব্দুস সালাম, যিনি স্থানীয় সামাজিক ও ব্যবসায়িক মহলে রঞ্জু সরকার নামে পরিচিত ছিলেন। ৬৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার প্রতাব গ্রামের বাসিন্দা এবং মরহুম ওমর আলী সরকারের জ্যেষ্ঠ সন্তান। স্বজনরা জানান, গত দুদিন আগে পারিবারিক সামান্য বিষয় নিয়ে স্বজনদের সাথে তাঁর এক অনাকাঙ্ক্ষিত মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ ও মনস্তাত্ত্বিক কষ্টে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে যমুনা ইকোপার্কের নির্জন গোলঘরে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে স্বজনদের মাঝে এক হৃদয়বিদারক কান্নার রোল পড়ে যায়।

ঘটনার সময়ের বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম তীরের উত্তর পাশে অবস্থিত ইকোপার্কের গোলঘরের একটি বেঞ্চে এক ব্যক্তিকে নির্জীব অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে সেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা মনে করেছিলেন তিনি হয়তো ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন বা ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাঁর শরীরে কোনো প্রকার নড়াচড়া বা সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের মনে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি অচেতनावস্থায় বা মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপরই পার্ক পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় অধিবাসী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানায় অবহিত করেন। তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল সেখানে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল সম্পন্ন করে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

উদ্ধার পরবর্তী পরিস্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সিরাজগঞ্জ সদর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ও সুরতহালকালে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো ক্ষতের দাগ বা আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়নি। তবে মৃত্যুটি শারীরিক অসুস্থতাজনিত নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বিষাক্ত উপাদান বা কারণ জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ হলেই কেবল তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত ও আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

সামগ্রিক বিষয়ে ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হলে বা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কোনো অপরাধমূলক সূত্র পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী বাড়ি থেকে বের হয়ে কীভাবে যমুনা ইকোপার্কে এলেন এবং শেষ সময়ে তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পার্কের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামগ্রিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

উল্লাপাড়ার প্রতাব গ্রামের প্রবীণ এই ব্যবসায়ীর আচমকা প্রয়াণে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজে এক শোকাচ্ছন্ন নীরবতা নেমে এসেছে। নিহত রঞ্জু সরকারের পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসী দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ বের করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সুশীল সমাজ সবাইকে কোনো ধরনের গুজব না ছড়িয়ে সঠিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: দিগন্ত বাংলা নিউজ ডেস্ক

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন