শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ

শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ

বিনোদন ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ: নতুন সমীকরণে চলচ্চিত্র অঙ্গন

​বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে উত্তেজনার পারদ তৈরি হয়েছিল, তাতে হঠাৎ করেই বড় পরিবর্তন এলো। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় ও বর্ষীয়ান অভিনেতা বাপ্পারাজ আগামী ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। সভাপতি পদে লড়ার জন্য তিনি তার প্যানেল গোছানোর কাজও শুরু করেছিলেন, কিন্তু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে চলচ্চিত্র পাড়ায় নতুন করে নানা জল্পনা-কল্পনা ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

​প্যানেলের অনিশ্চয়তা ও মুক্তি’র প্রতিক্রিয়া

​বাপ্পারাজের নেতৃত্বে যে প্যানেলটি গঠনের কাজ চলছিল, সেখানে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল ‘চাঁদের আলো’ খ্যাত চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তির। বাপ্পারাজের সিদ্ধান্তের পরপরই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন মুক্তি। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “হ্যাঁ, এটি সত্য। বাপ্পারাজ ভাই পারিবারিক কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। নির্বাচনের হাতে সময় খুব কম থাকলেও, আমি ভেঙে পড়ার পাত্রী নই। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুতই একজন সৎ, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সভাপতি পদে মনোনীত করতে।”

আরও পড়ুন: এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী ঝ্যাং ইমিং: পেছনে ফেললেন মুকেশ আম্বানিকে

এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী ঝ্যাং ইমিং: পেছনে ফেললেন মুকেশ আম্বানিকে

​রুমানা ইসলাম মুক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার বাপ্পারাজ তাকে ব্যক্তিগতভাবে একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বাপ্পারাজের সিদ্ধান্তে প্যানেলের কাজ কিছুটা থমকে গেলেও, মুক্তি আশাবাদী যে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করতে পারবেন। তিনি বাপ্পারাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “বাপ্পা ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময় অটুট থাকবে। তিনি আমাদের অভিভাবকতুল্য, তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে আমাদের সম্মান জানাতেই হবে।”

​বাপ্পারাজের বক্তব্য: শিল্পীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার

​নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে বাপ্পারাজ অত্যন্ত বিনয়ী ও স্পষ্টবাদী। তিনি বলেন, “শিল্পী সমিতি আমার নিজের পরিবার, আমার নিজের সংগঠন। আমি আজীবন শিল্পীদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তবে বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু জটিলতা ও ব্যস্ততা রয়েছে, যার কারণে নির্বাচনের মতো বিশাল দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীর প্রতি শুভকামনা জানাই এবং আশা করি, যারা নির্বাচিত হবেন তারা শিল্পীদের স্বার্থে কাজ করবেন।”

​চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন সমীকরণ ও জল্পনা

​বাপ্পারাজের এই সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তিনি একটি শক্তিশালী ও মার্জিত প্যানেল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার সরে দাঁড়ানোর পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সভাপতি পদে নতুন কে আসছেন? অনেকেই মনে করছেন, শিল্পীদের একটি বড় অংশ বাপ্পারাজকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন, যা ছিল তার জন্য একটি বড় জনসমর্থন। এখন এই সমর্থন কোন প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়বে, তা নিয়ে চলছে গুঞ্জন।

​নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

​বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির গত মেয়াদে মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ গত ২৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ধারা অনুযায়ী, একটি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যেই শিল্পীদের মাঝে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে। প্যানেল গঠন, ইশতেহার তৈরি এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ের কাজ পুরোদমে চলছে।

​কেন বাপ্পারাজের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

​বাপ্পারাজ বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের একজন অভিনেতা এবং প্রয়াত কিংবদন্তি নায়ক রাজ রাজ্জাকের সুযোগ্য পুত্র। তার একটি নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পীদের মধ্যে তার প্রতি যে সম্মান রয়েছে, তা অন্য অনেকের চেয়ে ভিন্ন। শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রায়ই বিভেদ ও গ্রুপিংয়ের অভিযোগ ওঠে, সেই প্রেক্ষাপটে বাপ্পারাজের মতো একজন পরিচ্ছন্ন ও নিরপেক্ষ ইমেজের মানুষের উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও প্রাণবন্ত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলত। তার অনুপস্থিতি প্যানেলগুলোর কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।

​ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি

​শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহের কোনো কমতি নেই। নির্বাচন কমিশনও ইতোমধ্যেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাপ্পারাজের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর সরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এখন প্যানেলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা কিংবা নতুন কোনো জোট তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। শিল্পীরা আশা করছেন, সব ধরনের রেষারেষি এড়িয়ে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে, যারা চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

​শেষ কথা

​বাপ্পারাজ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। শিল্পী সমিতির উন্নয়ন ও শিল্পীদের কল্যাণে তিনি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলেন, ভবিষ্যতে তেমনি থাকবেন বলে শিল্পীরা আশা করছেন। এখন সময়ের অপেক্ষা, নতুন সভাপতি কে হচ্ছেন এবং কার নেতৃত্বে পরবর্তী দুই বছর শিল্পী সমিতি পরিচালিত হবে।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন