সিরাজগঞ্জ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
শাহজাদপুরে চাঞ্চল্য: টিউবওয়েলের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে সর্বস্ব লুট
নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর | দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের নগরডালা গ্রামে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটি পরিবারের সদস্যদের টিউবওয়েলের পানির সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। গত ১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: যেভাবে ফাঁদ পাতে দুর্বৃত্তরা
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কৌশলে বাড়ির টিউবওয়েলের পানিতে শক্তিশালী চেতনানাশক মিশিয়ে রাখে। পরিবারের সদস্যরা ওই টিউবওয়েলের পানির বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। পরিবারের ভুক্তভোগী সদস্যরা হলেন— ১. মো. মজিবুর রহমান লালন, ২. মো. জেলহক আলী, ৩. মোছা. জরিনা বেগম, ৪. মোছা. অলিমা খাতুন এবং ৫. পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য মো. হোসাইন।
দিনের কাজ শেষে রাতে তারা দৈনন্দিন প্রয়োজনে টিউবওয়েলের পানি পান করেন এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সবাই অস্বাভাবিক গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এটি যে স্বাভাবিক ঘুম ছিল না, তা পরবর্তী ঘটনার ভয়াবহতা থেকেই প্রমাণিত হয়।
দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ ও লোমহর্ষক ডাকাতি
পরিবারের সদস্যরা যখন গভীর অচেতন অবস্থায় ছিলেন, তখন দুর্বৃত্তরা তাদের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে। তারা ঘরের টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে তারা বাড়ির অন্যান্য কক্ষের দরজা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়, যাতে ভুক্তভোগীদের কেউ জেগে উঠলেও ঘর থেকে বের হতে না পারেন।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহের নতুন এসপি আশিস বিন হাসান: সিরাজগঞ্জের গর্ব
লুটেরাদের লক্ষ্য ছিল সুনির্দিষ্ট। তারা ঘরের আলমারি ও তোষক তছনছ করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ এবং দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই নিভৃতে সম্পন্ন করা হয়েছে যে, বাড়ির পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীরাও কোনো শব্দ বা অস্বাভাবিকতা টের পাননি।
জেগে উঠে আতঙ্কিত পরিবার
পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘসময় পার হওয়ার পরও ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে অনেক চেষ্টার পর তাদের জ্ঞান ফিরলে তারা নিজেদের সর্বস্বান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। ঘরজুড়ে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং ঘরের টিন কাটা অবস্থায় দেখে তারা হতবাক হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান লালন জানান, “আমরা বুঝতেও পারিনি আমাদের সাথে এমনটা ঘটতে যাচ্ছে। পুরো পরিবারের সবাইকে অচেতন করে এভাবে সম্পদ লুট করা কোনো সাধারণ চোরের কাজ হতে পারে না।”
প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর দাবি
এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, অবিলম্বে এই দুর্ধর্ষ চোর চক্রকে খুঁজে বের করতে হবে। এই চক্রটি শুধুমাত্র তাদেরই নয়, বরং পুরো গ্রাম ও উপজেলার জন্য একটি বড় হুমকি। দ্রুত বিচারের আওতায় এনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ
শাহজাদপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদগুলোতে রাতের বেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অনেক বাড়িতেই এখন টিউবওয়েল বা পানির উৎস ঘরের বাইরে থাকে, যা দুর্বৃত্তদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। অপরাধীরা নতুন নতুন কৌশলে অপরাধ সংঘটিত করছে, যা মোকাবিলায় গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তদন্তের স্বার্থে যা করণীয়
থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে তারা সব ধরণের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির আনাগোনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিগন্ত বাংলা নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পানি বা যেকোনো খাদ্যদ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা এখন সময়ের দাবি। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই মামলার রহস্য উন্মোচনের দাবি জানাই।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।