ব্রেকিং নিউজ

শিশু রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

শিশু রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আলটিমেটাম আইনমন্ত্রীর, আসামি সোহেলের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

​নিজস্ব প্রতিবেদক (দিগন্ত বাংলা নিউজ): 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শেষ করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দেশের শিশু অধিকার রক্ষা এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের অনমনীয় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী।

​আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) ডিএমপি কমিশনারকে আইনমন্ত্রী এই জরুরি নির্দেশ দেন বলে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। আমাদের বিশেষ নিউজ পোর্টাল 'দিগন্ত বাংলা নিউজ'-এর ক্রাইম ডেস্কে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ যেন কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার জন্য যথাযথ আইনি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

​আদালতে ঘাতক সোহেল রানার রোমহর্ষক জবানবন্দি

​এদিকে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

​আদালত ও পুলিশ সূত্র থেকে দিগন্ত বাংলা নিউজ জানতে পেরেছে যে, জবানবন্দিতে সোহেল রানা ফুটফুটে শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছে। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল জানায়, ঘটনার সময় সে তীব্রভাবে মাদকাসক্ত ছিল এবং মাদক উগ্রতার কারণেই সে এই অপরাধটি ঘটিয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু রামিসার পরিবারের সাথে তাদের পূর্ব কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না বলেও সে দাবি করেছে।

আরও পড়ুন: গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে গণশুনানি শুরু করেছে বিইআরসি

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে গণশুনানি শুরু করেছে বিইআরসি

​পল্লবীর ফ্ল্যাট থেকে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার: পেছনের ঘটনা

​এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এই পৈশাচিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পল্লবী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

​মামলার বিবরণ এবং এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে শিশু রামিসা প্রতিদিনের মতো সাধারণ প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হয়েছিল। ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

​দিগন্ত বাংলা নিউজ-এর ক্রাইম ডেস্ক অ্যানালিসিস

​রাজধানীতে ইদানীং মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক বিকৃতির জেরে শিশুদের ওপর এমন নৃশংস অপরাধের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আইনমন্ত্রীর এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ এবং এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, সরকার এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়, যা ভবিষ্যতে এমন অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

​দরজা ভেঙে স্বজনদের হাহাকার ও খুনিদের গ্রেপ্তার

​মামলার বিবরণীতে আরও জানা যায়, রামিসা দীর্ঘ সময় ধরে বাসায় না ফেরায় স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে তাদের সন্দেহ হয়। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনরা ও স্থানীয় লোকজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি ঘরের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর থেকে শিশুটির খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

​নৃশংস এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতার সহায়তায় অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রীকে ঘরের ভেতর থেকেই আটক করে পুলিশ। তবে মূল ঘাতক সোহেল রানা ঢাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পল্লবী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও সে পুলিশের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছিল।

​দ্রুততম সময়ে বিচারের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

​আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করছেন। মন্ত্রী সাংবাদিকদের দূরভাষে জানিয়েছেন, "নিষ্পাপ শিশু রামিসার সাথে যে বর্বরতা করা হয়েছে, তার কোনো ক্ষমা নেই। আমরা ডিএমপিকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছি নিখুঁত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসলেই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে অপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত করা যায়।"

এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার বর্তমান সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তারা দাবি করেছেন, কেবল নির্দেশনাই নয়, বাস্তবে যেন দ্রুততম সময়ে এই ঘাতক দম্পতির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, যাতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।

​উপসংহার

​পরিশেষে বলা যায়, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড দেশের অপরাধচিত্রের এক অন্ধকার দিককে আমাদের সামনে এনেছে। আইনমন্ত্রীর এক সপ্তাহের আলটিমেটাম এবং ঘাতকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেল। তবে এখন দেখার বিষয়, পুলিশ কত দ্রুত নিখুঁত চার্জশিট আদালতে জমা দিতে পারে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঞ্চল্যকর অপরাধ এবং আদালত পাড়ার প্রতিটি ব্রেকিং খবরের লাইভ আপডেট সবার আগে প্রফেশনালভাবে পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন 'দিগন্ত বাংলা নিউজ'।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন