বিয়ে করতে গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ছাত্রদল নেতার

বিয়ে করতে গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ছাত্রদল নেতার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

প্রথম বিয়ে গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ছাত্রদল নেতা, অতঃপর হামলা

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম বিয়ের কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে গিয়ে স্থানীয় জনরোষের মুখে পড়েছেন ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ সাদান। এ ঘটনায় তাঁকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি; জরিমানা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালানোর মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগও উঠে এসেছে।

ঘটনার নেপথ্যের কাহিনী অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ সাদান নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং বাঘমারা গ্রামের প্রভাবশালী নেতা আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে সাদান প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আয়মনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন। অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে তাঁরা দীর্ঘ সময় সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু সাদান তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এমন একটি জটিলতা রেখেও রাজনৈতিক পদমর্যাদা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ের আয়োজন করেন।

কেন এই বিপত্তি? ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে কেন্দুয়া উপজেলার সোনাকান্দা গ্রামে। সাদান বিয়ে করতে গিয়েছিলেন পাইকুরা ইউনিয়নের কৃষকদল নেতার মেয়ের সাথে। বরের সাজে সাদান যখন কনের বাড়িতে উপস্থিত হন, ঠিক তখনই প্রথম স্ত্রীর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। আয়মনা আক্তারের বাবার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কনে পক্ষকে সতর্ক করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কনে পক্ষ ও স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা বিবাহিত হওয়ার তথ্য গোপন করে প্রতারণার দায়ে সাদানকে আটকে ফেলেন। কয়েক দফা দেন-দরবার ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর, পরিস্থিতি সামাল দিতে সাদানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করতে হয়।

আরও পড়ুন: ভারতের আসামে বিমান বিধ্বস্ত: পাঁচ সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের আসামে বিমান বিধ্বস্ত: পাঁচ সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু

জরিমানা পরবর্তী সহিংসতা সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আর্থিক জরিমানা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পরেই পরিস্থিতি আরো সহিংস হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সকালে সাদান এবং তাঁর সহযোগীরা দলবল নিয়ে সরাসরি প্রথম স্ত্রী আয়মনা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় হামলায় আয়মনা আক্তারের বড় বোন সুমনা আক্তার গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। ঘটনাটি এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে, আয়মনার পরিবার নিরাপত্তার অভাব বোধ করে ৯৯৯ নম্বরে জরুরি কল প্রদান করে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন ছাত্রদল নেতার এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ, তেমনি অভিযুক্তের বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে যে আগে বিয়ে করেছে, তা তিনি জানতেন না। অন্যদিকে, কনের বাবা এবং কৃষকদল নেতা শাজাহান মিয়া জানিয়েছেন, যদি তিনি সাদানের বৈবাহিক অবস্থার কথা আগে জানতেন, তবে কখনোই নিজের মেয়ের বিয়ে তার কাছে দিতেন না।

আইনগত অবস্থান ও পুলিশের বক্তব্য মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসীম কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার পর আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। বিয়ে সংক্রান্ত এই ঘটনায় এক নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

দিগন্ত বাংলার পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক পদে আসীন ব্যক্তিদের নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধ সবসময়ই সাধারণ মানুষের জন্য অনুসরণীয় হওয়া উচিত। সেখানে একজন ছাত্রদল নেতার প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাওয়া এবং পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি কেবল একটি আইনি জটিলতা নয়, বরং একটি বড় ধরনের নৈতিক স্খলন। দিগন্ত বাংলা নিউজ সব সময় সমাজের এমন অসঙ্গতিগুলোকে সামনে নিয়ে আসে যাতে করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পায়।

আমরা আশা করছি, প্রশাসন এই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং হামলার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবে। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে যথাযথ নিরাপত্তা ও বিচার পায়, সেটি নিশ্চিত করা এখন স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন