জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
‘আমি নির্দোষ স্যার, মাফ করে দিন’: আদালতে প্রধান আসামি সোহেল রানা
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সোহেল রানা অপরাধ অস্বীকার করেন।
আদালতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন বুধবার সকালে দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আজ ছিল আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন। বিচারক যখন তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন, তখন সোহেল রানা বিমর্ষ কণ্ঠে বলেন, “আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।”
আরও পড়ুন: না ফেরার দেশে প্রবীণ রাজনীতিবিদ এ কে এম রহমতুল্লাহ
নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “আমি নির্দোষ, আমি খালাস চাই। আমার একটি ছোট সন্তান আছে, তার মুখ চেয়ে আমাকে মাফ করে দিন।” এ সময় তিনি বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ডলার নামে অন্য এক ব্যক্তি, যার কথা এখন পর্যন্ত সেভাবে সামনে আসেনি। সোহেল রানা দাবি করেন, “আমার সঙ্গে ডলার ছিল। ওকেও ধরেন স্যার। আমি যে পাপ করেছি বা আমার ওপর যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তার বিচার করুন, কিন্তু ডলারকেও বিচারের আওতায় আনুন।”
বিচারকের ভূমিকা ও কার্যক্রম আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে বিচারক তাকে থামিয়ে দেন। বিচারক নির্দেশ দেন, “আপনারটা আপনি বলুন, অন্য কারও ব্যাপারে কথা বলার প্রয়োজন নেই।” এরপর সোহেল পুনরায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
মামলার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার ভয়াবহতা ও নৃশংসতা সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। পুলিশি তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলাটি বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জিজ্ঞাসাবাদ ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপটি শেষ হলে আদালত যুক্তিতর্ক (Arguments) শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করবেন, যা মামলার রায়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিচার প্রত্যাশী মানুষের দৃষ্টি শিশু রামিসার পরিবার ও এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘ যাত্রায় আসামিদের এই ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের দাবি ও আর্তনাদ বিচারপ্রার্থীদের মনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবেন। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব যেভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তাতে মামলার রায়ে খুব দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ আগামী দিনে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। দিগন্ত বাংলা নিউজের পক্ষ থেকে আমরা এই মামলার প্রতিটি আপডেট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ন্যায়বিচার যেন প্রতিষ্ঠিত হয়, এটাই সাধারণ মানুষের একমাত্র কাম্য।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।