শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বিস্তারিত প্রতিবেদন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় করা মামলার ঐতিহাসিক রায় আজ রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) প্রদান করা হয়েছে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া রায়ে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায় ঘোষণা শেষে ১১টা ৪১ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।

আরও পড়ুন: ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে উৎসে কর প্রত্যাহার: সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে উৎসে কর প্রত্যাহার: সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নৃশংসতার শুরু

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে পুলিশ আট বছর বয়সী শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। এই অমানবিক ঘটনার পর পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার ভয়াবহতা এবং শিশু নির্যাতনের বিষয়টি পুরো জাতিকে স্তম্ভিত ও ব্যথিত করে দিয়েছিল।

বিচারিক কার্যক্রমের দ্রুততম মাইলফলক

এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়েছে:

  • মামলাটি তদন্ত শেষে ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া।

  • ওইদিনই মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

  • ঈদুল আযহার ছুটির পর গত ১ জুন মামলার চার্জ গঠন করা হয় এবং আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

  • পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা-মা, বোন ও আত্মীয়সহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

  • ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এমন একটি চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অপরাধের বিচার সম্পন্ন হওয়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিশু রামিসার পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই রায়ের মাধ্যমে শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধীদের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন