জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রামিসা হত্যা মামলা: সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত, বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আগামী বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য করেছেন।
সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায় ও আলামত উপস্থাপন
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জব্দ আলামতসমূহ উপস্থাপন করা হয়। তদন্তকালে উদ্ধার করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন ফরেনসিক আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হলে সাক্ষীরা সেগুলো শনাক্ত করেন এবং আদালত তা নথিভুক্ত করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলের বীভৎস বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মঙ্গলবার ১৬ জন সাক্ষী সশরীরে উপস্থিত থেকে তাদের জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
আরও পড়ুন: আদালতে আসামির বক্তব্য প্রচার ও কথা বলায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা
সাক্ষীদের মধ্যে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী ও স্থানীয় সাক্ষীরা রয়েছেন। শিশু সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী, রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে।
বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুততম অগ্রগতি
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার (১ জুন) একই ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযোগ গঠনের পরদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং একই দিনের মধ্যে তা সমাপ্ত করা হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার এই গতি অত্যন্ত ইতিবাচক, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশা দেখাচ্ছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের সারসংক্ষেপ
গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির নিখোঁজের পরদিন ২০ মে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিখুঁতভাবে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আগামী দিনের আইনি কার্যক্রম
আদালতের নির্দেশে আগামী বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিরা সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই কার্যক্রম শেষে মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলার প্রতিটি ধাপে আইনি তৎপরতা বজায় রেখেছে।
দিগন্ত বাংলা নিউজের পর্যবেক্ষণ
রামিসা হত্যার মতো একটি নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সমাজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র দুই দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক দ্রুততার উদাহরণ। আমরা আশা করছি, যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন। এই মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতিটি ধাপের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।