জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টে মায়ের নামে করার প্রস্তাব নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রশাসনিক নীতি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও সময়োপযোগী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেরানীগঞ্জের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার যে প্রস্তাব প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল, তা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেননি। বরং তিনি একটি নীতিনির্ধারণী বার্তা দিয়েছেন যে, বিদ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সময় নতুন নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।
প্রস্তাব ও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত
কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বর্তমানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঈদুল আজহার ঠিক পূর্বে এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এই প্রস্তাবে কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের ৪৮ দেশের চূড়ান্ত দল ঘোষণা
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২ জুন) প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, বিদ্যমান সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের চেয়ে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে নামকরণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রশাসনিক ব্যয় ও মিতব্যয়িতা: প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি
শুধু নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবই নয়, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার মশা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের যে প্রস্তাবটি ছিল, তাও প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেননি।
ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ফ্লোরিডার মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ফাইলটি ফেরত দিয়ে অত্যন্ত যৌক্তিক মন্তব্য করেছেন—দেশের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব, যার জন্য বিদেশ সফরের প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের সিদ্ধান্তসমূহ সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তসমূহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শৃঙ্খলা ও মিতব্যয়িতার বহিঃপ্রকাশ। বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম বারবার পরিবর্তন না করে সেগুলোর সেবার মান বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন উন্নয়নমূলক কাজের ওপর মনোযোগ দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নতুন নামকরণের প্রয়োজন হলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তা করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
দিগন্ত বাংলা নিউজের পর্যবেক্ষণ
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একটি চলমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন জনসেবামূলক কাজের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কের জন্ম দেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে এড়িয়ে গিয়ে উন্নয়নমুখী কাজের ওপর আলোকপাত করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও সরকারি প্রতিটি দপ্তর ও মন্ত্রণালয় একইভাবে জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।