জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে চলমান উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, দেশে বর্তমানে কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া বা বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটতে পারে, যাকে লোডশেডিং বলা সমীচীন নয়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র ও চাহিদাবিষয়ক তথ্য:
সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে বিদ্যুতের দৈনিক সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে:
চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রাথমিক জ্বালানির সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে কিছু এলাকায় মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬,৫০০ মেগাওয়াট থেকে ১৭,৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করছে এবং ১৫,৫০০ মেগাওয়াট থেকে ১৭,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে।
লোডশেডিং বনাম বিদ্যুৎ-বিভ্রাট:
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল গ্রামাঞ্চলে এবং নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ-সংকটের অভিযোগ তুললে মন্ত্রী তার ব্যাখ্যায় বলেন, লোডশেডিং হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ না থাকা। যেহেতু উৎপাদন পর্যাপ্ত আছে, তাই সেটিকে লোডশেডিং বলা যাবে না। ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণে গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একটি কারিগরি ত্রুটি মাত্র।
আরও পড়ুন: সংসদে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকারের সতর্কবার্তা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি:
সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী নিলোফার চৌধুরী মনি ও খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে জানান:
দেশের গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বর্তমানে ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট।
বর্তমানে ৭,৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ১,১৭২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ২৬টি কেন্দ্র সচল আছে এবং ৬৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও ১৫টি কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান আছে, যা ২০২৯-২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান:
সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস প্রদান করেছেন: ১. খুলনা অঞ্চল: রূপসায় গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকা দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ভোলা থেকে গ্যাস এনে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা খুলনাবাসীর বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে। ২. চরাঞ্চল: দুর্গম চরাঞ্চলে লাইন নেওয়া ব্যয়বহুল হলেও পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ৩. পার্বত্য এলাকা: দুর্গম এলাকাগুলোতে সোলার এনার্জি ও পাওয়ার ব্যাংকভিত্তিক বিদ্যুতায়নের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার:
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ পুনরায় আশ্বস্ত করেছেন যে, ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করার কোনো প্রয়োজন পড়ছে না বলে তিনি দাবি করেন। তবে ট্রান্সফরমার চুরি রোধে জনগণকে আরও সচেষ্ট হতে হবে এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।