চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটবে না ইরান: গালিবাফ

চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটবে না ইরান: গালিবাফছবি: সংগৃহীত

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটবে না ইরান: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তেহরানের বজ্রকঠিন হুশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে ইরান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নাম। সম্প্রতি ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ বা সামরিক সংঘাতের প্রথম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শীর্ষ নীতিনির্ধারক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন, তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে লড়াইয়ে ইরান অবতীর্ণ হয়েছে, সেখান থেকে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান এক পা-ও পিছু হটবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে তীব্র ভর্ৎসনা গালিবাফ তাঁর বিশেষ বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ অপতৎপরতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই দুই রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে তাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালাচ্ছে। গালিবাফের মতে, এটি কেবল একটি সামরিক সংঘাত নয়, বরং এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক পরিকল্পিত অপরাধ। বিশেষ করে গাজাসহ ফিলিস্তিনি অঞ্চলে শিশুদের ওপর চালানো নির্মম হত্যাযজ্ঞকে তিনি ‘মানবতার ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এমন কোনো নৃশংসতা নেই যা এই শক্তিগুলো করেনি, কোনো আন্তর্জাতিক আইন বা মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে তারা নিরপরাধ মানুষ হত্যায় লিপ্ত রয়েছে।”

শহীদদের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণা ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে গালিবাফ বলেন, আজকের স্বাধীন ও শক্তিশালী ইরানের পেছনে রয়েছে সেই সব বীর শহীদদের রক্ত। তাদের এই আত্মত্যাগ কেবল শোকের নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকার এবং সংগ্রামের বড় অনুপ্রেরণা। গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের গৌরব রক্ষা করার জন্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার জন্য দেশের জনগণ ও সরকার একতাবদ্ধ। কোনো ধরনের সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক অবরোধ কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মুখে ইরান মাথা নত করবে না।

আরও পড়ুন: বিয়ে করতে গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ছাত্রদল নেতার

বিয়ে করতে গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ছাত্রদল নেতার

চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে ইরান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভগুলো ফুটে উঠেছে। তেহরান চায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে, যেখানে কোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমরা লড়াই করছি ন্যায্য অধিকারের জন্য। চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান থেকে সরার কোনো অবকাশ নেই।” তাঁর এই হুশিয়ারি একই সাথে আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য একটি ভরসার বার্তা এবং প্রতিপক্ষ শক্তির জন্য এক শক্ত সতর্কবার্তা।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তেহরানের অবস্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থান বর্তমানে বিশ্বশক্তির ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। একদিকে যখন ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক কৌশল নিয়ে সক্রিয়, অন্যদিকে ইরান তার নিজস্ব অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড় দিতে নারাজ। গালিবাফের এই তেজদীপ্ত ঘোষণা প্রমাণ করে যে, তেহরান যুদ্ধের চেয়ে শান্তি চাইলেও, সম্মানহানি বা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয়।

দিগন্ত বাংলার পর্যবেক্ষণ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইরান যেভাবে তার আদর্শের ওপর অবিচল রয়েছে, তা সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। দিগন্ত বাংলা নিউজের পক্ষ থেকে আমরা লক্ষ্য করছি, এই রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ইরানের এই অবস্থান বিশ্বব্যাপী তাদের অবস্থানকে যেমন শক্তিশালী করছে, তেমনি বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পরিশেষে, মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের এই বার্তা কেবল ইরানের জনগণের জন্য নয়, বরং শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য এক নতুন আশার বাণী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চূড়ান্ত বিজয় কি অর্জিত হবে? নাকি মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোড় ঘুরবে অন্য দিকে? সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের হাতে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন