জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে বর্তমান সরকারের অবস্থান ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ফেসবুকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো কার্যকর বিধান বর্তমানে দেশের প্রচলিত আইনে নেই।
সংসদে উত্তাপিত প্রশ্ন ও মন্ত্রীর জবাব
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম হেলেন জেরিন খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি, বট-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট এবং এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চরিত্রহননের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, এ ধরনের হয়রানি রোধে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে ইরানের নতুন কৌশলী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক বার্তা
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে কেবল অনুরোধের মাধ্যমেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে কোনো বিতর্কিত কনটেন্ট অপসারণের তাগিদ দিতে পারে। তবে এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক সময় অনুরোধ জানানোর পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মেটা কর্তৃপক্ষের ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই আইনি সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সরকার সাইবার আইন সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত হলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর দায়ে যথাযথ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে বর্তমানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ খোদ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অশনিসংকেত। তাই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং জবাবদিহিতার সম্পর্ক তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
ভুয়া আইডির দৌরাত্ম্য, এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট এবং সাইবার বুলিং—এই তিনটি বিষয়ের ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যেন কেবল তথ্যের অবাধ প্রবাহের মাধ্যম না হয়ে অপপ্রচারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেজন্য সরকার প্রযুক্তিগত ও আইনি—উভয় দিক থেকেই কাজ করছে।
উপসংহার: ফেসবুকের মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এখন সারা বিশ্বের দেশগুলোর জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইনি সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সরকার কত দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দিগন্ত বাংলা নিউজ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আপডেট আপনাদের সামনে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।