২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সামনে হাতছানি দিচ্ছে যে ঐতিহাসিক রেকর্ডগুলো

২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সামনে হাতছানি দিচ্ছে যে ঐতিহাসিক রেকর্ডগুলো
ছবি: সংগৃহীত
 খেলাধুলা ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

​ফুটবল বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করে নিজের ক্যারিয়ারের পূর্ণতা অর্জন করেছেন তিনি। তবে উত্তেজনার পারদ যেন এখানেই থেমে নেই। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আবারও তাকে ফিরিয়ে আনছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরটি মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, যা নিজেই এক ইতিহাসের জন্ম দেবে।

১. ছয় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিরল কীর্তি

​২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামার মাধ্যমেই মেসি ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়বেন। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়ার পর থেকে প্রতিটি আসরেই তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের এই পথচলা তার অবিশ্বাস্য ফিটনেস এবং খেলার প্রতি তীব্র আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ।

২. গোল্ডেন বুটের হাতছানি ও মিরোস্লাভ ক্লোজারকে ছোঁয়া

​বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির গোল সংখ্যা এখন ১৩। এই তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজারের গোল সংখ্যা ১৬। অর্থাৎ, মাত্র ৩টি গোল করলেই মেসি ক্লোজারকে ছুঁয়ে ফেলবেন এবং ৪ গোল করলে তিনি হবেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে একক সর্বোচ্চ গোলদাতা। বর্তমান সময়ে মেসির ফর্ম এবং আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের শক্তি বিবেচনা করলে এই রেকর্ডটি ভেঙে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে ইরানের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তাপ

ইসরায়েলে ইরানের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তাপ

৩. সর্বাধিক ম্যাচ এবং মিনিটের রেকর্ড

​ইতিমধ্যেই মেসি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ২৬টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে একটি দল সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ফলে মেসি যদি নিয়মিত মাঠে থাকেন, তবে তিনি এই ব্যবধানকে এতটাই বাড়িয়ে নেবেন যে ভবিষ্যতে অন্য কোনো খেলোয়াড়ের জন্য তা অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সাথে ২,৩১৪ মিনিট খেলার রেকর্ডটি তিনি আরও সমৃদ্ধ করবেন।

৪. অ্যাসিস্ট ও গোল অবদানের নতুন উচ্চতা

​বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের তালিকায় মেসি রয়েছেন উপরের সারিতেই। কিংবদন্তি পেলের ১০টি অ্যাসিস্টের রেকর্ডের খুব কাছেই অবস্থান করছেন মেসি। এছাড়া বিশ্বকাপে ডিরেক্ট গোল কন্ট্রিবিউশন বা গোল অবদানের পরিসংখ্যানেও তিনি পেলের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক দুর্দান্ত সুযোগ রয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।

৫. অনন্য এক ‘প্রথম’ হওয়ার ইতিহাস

​মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি গ্রুপ পর্ব, রাউন্ড অফ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল—প্রতিটি ধাপেই গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালে তিনি যদি তার এই ধারবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তবে সেটি হবে ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

উপসংহার

অনেকের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ আসর। তবে মাঠের পারফরম্যান্স আর নেতৃত্বের দক্ষতায় তিনি এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবে, আর মেসি তার বর্ণিল ক্যারিয়ারে যুক্ত করবেন নতুন সব রেকর্ড। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন শুধুই সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন