প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, ২১ জুলাই ২০২৬:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চাঞ্চল্যকর ও নির্মম আব্দুর রহমান হত্যা মামলার মূল হোতা টিটু ওরফে টিটোনসহ হিংস্র এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব চিহ্নিত আসামিকে দ্রুততার সাথে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় ছাত্র-যুবসমাজ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। একই সাথে রায়গঞ্জ উপজেলা থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নির্মূল করে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ার বলিষ্ঠ দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া সেন্টার পয়েন্ট জনতা ব্যাংক সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মিলন পাঠাগারের সামনে থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে রায়গঞ্জের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর!
সড়ক প্রদক্ষিণ ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্য
উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে সুশীল সমাজ, রাজনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইন শোহান এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার অন্যতম সভাপতি আব্দুর রউফ শোভন তমাল সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশে বক্তাগণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরেন:
- ঘাতকদের তাত্ক্ষণিক গ্রেপ্তার: আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি টিটুসহ এজাহারভুক্ত ও জড়িত বাকি সকল ঘাতককে অবিলম্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জালে তুলতে হবে।
- সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরণ: কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহল যেন এই হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
- মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া: অপরাধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূল উৎস মাদক ব্যবসা ও সেবন বন্ধে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
যে ঘটনার জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও মৃত্যু
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ধানগড়া মধ্যপাড়া গ্রামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষটি ঘটে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই রাতে স্থানীয় বখাটে টিটোন (৪৫) অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাদক সেবন করে ভুক্তভোগী আব্দুর রহমানের বাসভবনের সামনে এসে প্রকাশ্যে কদর্য ভাষায় গালিগালাজ ও অশালীন আচরণ শুরু করে।
অসামাজিক এহেন আচরণের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান আব্দুর রহমান ও তাঁর ছোট ভাই হাছান শেখ (২২)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকসেবী টিটোন ও তার সহযোগীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর পাশবিক হামলা চালায়। এতে রামদায়ের কোপ ও আশঙ্কাজনক ছুরিকাঘাতে দুই ভাই আব্দুর রহমান ও হাছান শেখ গুরুতর ও রক্তাক্ত জখম হন।
হাসপাতালে জীবনযুদ্ধ ও করুণ পরিণতি
স্থানীয়রা সংকটজনক অবস্থায় দুই ভাইকে প্রথমে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আব্দুর রহমানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরিভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (১৭ ১৭ জুলাই) মৃত্যুবরণ করেন আব্দুর রহমান। তিনি রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে।
অন্যদিকে, হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ছোট ভাই হাছান শেখ বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর অবস্থাও এখনো শংকামুক্ত নয়।
সমাবেশের সমাপনীতে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী অল্প সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা না হলে পরবর্তীতে রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
সংবাদ সূত্র: রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।