পশ্চিমবঙ্গের দুই সন্তান নীতির প্রস্তাব ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হযরত আবদুল হাকিম জুনায়েদের মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গের দুই সন্তান নীতির প্রস্তাব ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হযরত আবদুল হাকিম জুনায়েদের মন্তব্য
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

মানব সভ্যতার সূচনাকাল থেকেই পৃথিবীর জমিনে জন্ম, মৃত্যু, রিজিক এবং মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মহান স্রষ্টার সুনির্দিষ্ট কুদরত ও নিয়ন্ত্রণাধীন বলে আসমানি কিতাব ও ধর্মীয় বিধানগুলোতে বারবার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান আধুনিক ও বস্তুবাদী বিশ্বে মানবজীবনের বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পাশাপাশি যখনই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা জন্মহার সীমিত করার উদ্দেশ্যে নানামুখী প্রশাসনিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন তা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদদের মাঝে গভীর ভাবনার খোরাক জোগায়। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার যে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হযরত আবদুল হাকিম জুনায়েদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জীবনঘনিষ্ঠ আধ্যাত্মিক মন্তব্য প্রদান করেছেন। তাঁর এই গভীর আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে চিন্তার দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং রাষ্ট্রীয় নীতি ও ইলাহি বিধানের চিরন্তন সম্পর্কের বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী আজকের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি অর্থাৎ ১৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মঙ্গলবারে প্রদত্ত বক্তব্যে ময়মনসিংহের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট আলেম হযরত আবদুল হাকিম জুনায়েদ দাঃকাঃ অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, কেবল মানবসন্তানই নয়, বরং এই মহাবিশ্বের যাবতীয় ক্ষমতা, সৃষ্টিপ্রক্রিয়া এবং জীবন পরিচালনার চূড়ান্ত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাই। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, এই পৃথিবীর বুকে অতীতে যাদের আগমন ঘটার কথা ছিল তারা যেমন নির্দিষ্ট সময়ে এসেছে, বর্তমানের প্রজন্মও নিয়তি অনুযায়ী বেঁচে আছে, ঠিক একইভাবে সুদূর ভবিষ্যতেও পৃথিবীতে যাদের আগমন পূর্বনির্ধারিত রয়েছে, তাদের আসা কোনো মানবীয় আইন বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আটকানো সম্ভব হবে না। মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর ধারা সম্পূর্ণভাবে ইলাহি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে কোনো কৃত্রিম নীতি বা কঠোর আইন স্রষ্টার মহাপ্রলয় বা সৃষ্টির ধারাকে চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে না।

আরও পড়ুন: সলঙ্গায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ ও তীব্র যানজট

হযরত আবদুল হাকিম জুনায়েদের এই আধ্যাত্মিক ও তত্ত্ববহুল মন্তব্যের পেছনে মূলত প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক একটি আলোচিত প্রশাসনিক উদ্যোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেক্ষাপট কাজ করেছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, গত সোমবার, অর্থাৎ ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিজেপি সরকারের বর্তমান মেয়াদের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, সফলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার সময় এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় গণমাধ্যমের সামনে এসে সরকারের এই জনস্বাস্থ্য ও জনমিতি সংক্রান্ত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, আধুনিক সমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য পরিবারে দুটি সন্তানই যথেষ্ট এবং এর বেশি সন্তান নেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় তাঁর দাপ্তরিক বক্তব্যে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে জানান যে, রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে বেঁধে ফেলার জন্য সরকার খুব শীঘ্রই পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি কঠোর আইনি বিধান বা আইন প্রণয়ন করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত এই নতুন সরকারি নীতি অনুযায়ী প্রতিটি দম্পতি বা পরিবারকে দুটি সন্তানের বেশি জন্ম না দেওয়ার বিষয়ে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে উৎসাহিত করা হবে এবং সরকারিভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, পরিবারে দুটি সন্তান হওয়ার সাথে সাথেই দম্পতিদের উচিত স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালগুলোতে গিয়ে দ্রুত যোগাযোগ করা এবং বিনামূল্যে উপলব্ধ গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা বা সেবা গ্রহণ করে পরিবার ছোট রাখার এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করা। তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই উচ্চাভিলাষী আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও, প্রস্তাবিত এই আইনে সাধারণ নাগরিকদের ওপর ঠিক কী ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ বা আইনি শাস্তি আরোপিত হবে এবং কবে নাগাদ এই আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেবল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কারণই তুলে ধরেননি, বরং এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নারীস্বাস্থ্য, মাতু'মৃ'ত্যু হার হ্রাস এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোর ওপরও বিশেষভাবে আলোকপাত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনপদে অনেক সময় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া এবং ঘন ঘন সন্তান প্রসবের ফলে মা ও শিশু উভয়ের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়, যা রোধ করার জন্য জন্মবিরতি বা ছোট পরিবার গঠন অত্যন্ত জরুরি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই সার্বিক উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে, তেমনি অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে। আর এই সমস্ত স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক যুক্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় পন্ডিত ও আধ্যাত্মিক নেতারা মনে করছেন যে, মানুষের জীবন ও জন্মপ্রক্রিয়াকে কেবল প্রশাসনিক খতিয়ান দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, এর পেছনে মহান স্রষ্টার এক সুমহান হিকমত ও বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত: পুলিশ কমিশনারের শৃঙ্খলা ও সেবামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান

পরিশেষে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের দুই সন্তান নীতির প্রস্তাব এবং প্রখ্যাত আলেম হযরত আবদুল হাকিম জুনায়েদের ইলাহি ক্ষমতার ওপর আস্থার এই দ্বিমুখী বার্তা বর্তমান সময়ের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চিন্তাজাগানিয়া বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার আধুনিক পরিকল্পনা চলছে, অন্যদিকে বিশ্বাসের জায়গায় মানুষ স্রষ্টার ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার তাগিদ অনুভব করছে। মানবজাতির ভবিষ্যৎ ও জন্মহার নিয়ন্ত্রণের এই রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক আলোচনা আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা এবং নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসনের মাঝেই মানবজীবনের প্রকৃত কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও ধর্মীয় প্রেস নোট।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন