সাবেক এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্নার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ

সাবেক এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্নার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. হাবিবে মিল্লাত মুন্নার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বরাবর এই লিখিত অভিযোগ পত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী পাবলিক প্রোসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে তড়িৎ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। সাবেক এই জনপ্রতিনিধির দেশ ও বিদেশে গড়ে তোলা অগণিত অবৈধ সম্পত্তি এবং তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পরিচালিত ব্যাংকিং লেনদেনের নিবিড় তদারকি দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন করল মন্ত্রিসভা

দুদকে জমা দেওয়া বিস্তারিত অভিযোগসূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডের স্থায়ী অধিবাসী এবং ঢাকার ভেরিটাস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ভেরিটাস আইটি ও টেলিকম লিমিটেড এবং ভেরিটাস হেলথ কেয়ারের মালিক ড. হাবিবে মিল্লাত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পেশ করা হলফনামায় নিজের প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তিনি যে পরিমাণ সম্পদের বিবরণ পেশ করেছিলেন, তার চেয়ে প্রকৃতপক্ষে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ হাজার গুণ বেশি। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য (লন্ডন) এবং সিঙ্গাপুরে সাবেক এই এমপি ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাাবর সম্পত্তির তথ্য আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি অবকাঠামোগত উন্নয়ন তহবিলের অর্থ তছরুপ করে এবং নিজ কোম্পানির আড়ালে অর্থ পাচার করে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।

লিখিত অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেন যে, সাবেক এমপি হাবিবে মিল্লাত বিগত আওয়ামী লীগ শাসনকালে সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় হওয়ার সুবাদে সিরাজগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকায় একক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কোনো প্রকার আইনি বাধা বা জবাবদিহিতা ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যান। সরকারি প্রকল্পের কাজ তছরুপ, নিয়োগ বাণিজ্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজ ও স্ত্রীর মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সেসব অর্থ কৌশলে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দরখাস্তে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে মুসলিমদের স্থান না দিলে সে হিন্দু নয়: মোহন ভগবত

অর্থনৈতিক দুর্নীতির পাশাপাশি হাবিবে মিল্লাতের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর সশস্ত্র হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগও এতে আনা হয়েছে। দরখাস্তে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে সাবেক এই এমপি সিরাজগঞ্জের রাজপথে সরাসরি উপস্থিত থেকে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশনা দেন। ওই সময়ে সিরাজগঞ্জে একাধিক ছাত্র ও নাগরিক নিহত হন, যা নিয়ে থানায় ও আদালতে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এসব হত্যা মামলায় হাবিবে মিল্লাত এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গ্রেফতার এড়াতে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রের মাধ্যমে জানা যায়, এর আগেও গত ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি উক্ত বিষয় অনুসন্ধানের জন্য দুদক চেয়ারম্যান বরাবর একটি প্রাথমিক আবেদন করা হয়েছিল, যার রিসিভ কপি বর্তমান অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুদকের পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবর দরখাস্তের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। দেশের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশন যেন হাবিবে মিল্লাত ও তাঁর পরিবারের দেশ-বিদেশের সব ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে জব্দ করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সে আহ্বান জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অভিযোগপত্র।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন