ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
অনলাইন ডেস্ক। দিগন্ত বাংলা নিউজ
শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। শুরুতে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার আভাস দিলেও, বর্তমানে ওভাল অফিসের সুর বলছে ভিন্ন কথা। এখন তিনি এই সংঘাত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
তাড়াহুড়ো করতে বারণ ট্রাম্পের:
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাকে তাড়াহুড়ো করতে বলবেন না।” যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে চাপের মুখে আছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে ১৮ বছর এবং ইরাকে বহু বছর অবস্থান করেছিল। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় পাঁচ বছর যুক্ত ছিল। শুরুতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষের কথা বললেও ট্রাম্প এখন অনেক ধীরস্থির কৌশলে এগোতে চান।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মার্কিন অবস্থান:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু তারা নিজেরাও জানে না এই মুহূর্তে দেশ কে চালাচ্ছে। তাই আমরা তাদের বিশৃঙ্খলা সামলে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিচ্ছি।” তবে যুদ্ধবিরতি চললেও নৌ-অবরোধ বা ব্লকেড নিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনরায় পরিষ্কার করেছেন তিনি। ট্রাম্প মনে করেন, সময়ের চাপে যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ইরান আছে; কারণ তেল রপ্তানি সচল করতে না পারলে তাদের পুরো অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাবে।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ:
ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এটি একটি বোকামি পূর্ণ প্রশ্ন। প্রথাগত পদ্ধতিতেই আমরা তাদের পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছি। তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রের কী প্রয়োজন?” তিনি আরও যোগ করেন যে, পৃথিবীর কারও জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি থাকা উচিত নয়।
জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক প্রভাব:
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির চেয়ে পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামানো বেশি জরুরি। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সব জাহাজ এখন মার্কিন তেল নিতে এখানে আসছে।
উপসংহার:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থান থেকে এটি স্পষ্ট যে, হোয়াইট হাউস আপাতত পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের চেয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমেই তেহরানকে চূড়ান্ত চুক্তিতে বাধ্য করতে চায়। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই ‘ছায়া যুদ্ধ’ দীর্ঘায়িত করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: সিএনএন ও বিবিসি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।