আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ফিলিস্তিন ইস্যু: ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী নয় পাকিস্তান
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইস্যুটি পাকিস্তান তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এই অবস্থানের অটলতা আবারও স্পষ্ট করেছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পাকিস্তান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন আহ্বানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস' চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, ইসহাক দারের এই বক্তব্য মূলত তার একটি কঠোর ও আনুষ্ঠানিক জবাব। জাতিসংঘে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি জানান, ফিলিস্তিন ও গাজার বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের মূল নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসার অবকাশ নেই।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ: নতুন সতর্কবার্তা ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা
ফিলিস্তিন সংকটের বাইরেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান যে নীরব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করেছে। যদিও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার স্বার্থে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে পাকিস্তান এই ভূমিকা অব্যাহত রেখে অঞ্চলে বৃহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে আশাবাদী।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বৈঠক শেষে ইসহাক দার জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে আরও গভীর আলোচনার জন্য সম্মত হয়েছেন। এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে রুবিও চলতি বছরের শেষ নাগাদ পাকিস্তান সফরের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
দিগন্ত বাংলা নিউজের পর্যবেক্ষণ
পাকিস্তানের এই অটল অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একদিকে যেমন তারা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন বজায় রাখছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গেও কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ পাকিস্তান কতটা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ এই সংবেদনশীল বিষয়টির প্রতিটি আপডেট সংগ্রহ করছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ খবর পেতে আমাদের পোর্টালের সঙ্গেই থাকুন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।