সিরাজগঞ্জ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রায়গঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ | দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুরকা ইউনিয়নের দাদপুর দাসপাড়া এলাকায় এক পৈশাচিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ১১ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও নির্যাতনের বীভৎসতা
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি অত্যন্ত কোমলমতি এবং বিদ্যালয়ের পাঠে মনোযোগী। অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্ব থেকেই শিশুটির ওপর কুনজর দিয়ে আসছিল। সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সময় তাকে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হতো। ঘাতক অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যেন সে পরিবারের কাছে মুখ না খোলে। মুখ খুললে তাকে বা তার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে ভয় দেখানো হতো।
আরও পড়ুন: নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরিবারের সন্দেহ ও সত্য উন্মোচন
ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও আচরণের আকস্মিক পরিবর্তনে পরিবারের সদস্যদের মনে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে। শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং স্বাভাবিক কথাবার্তা ও খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সলঙ্গা থানায় খবর দেয়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা
খবর পেয়ে সলঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ওসি আসলাম আলী দৃঢ়তার সাথে জানান, অপরাধী যেই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
শিশুর ওপর এই ধরণের নৃশংস ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাম বা শহর—যেখানেই হোক, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাদের আচরণের কোনো পরিবর্তনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা ও জনগণের প্রত্যাশা
আমরা আশা করি, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একটি কোমলমতি শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করার মতো গর্হিত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। দিগন্ত বাংলা নিউজ সবসময় নারী ও শিশুর নিরাপত্তার পক্ষে সোচ্চার এবং এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘটনাটির প্রতিটি আপডেট আমাদের পাঠকদের সামনে তুলে ধরব।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।