খেলাধুলা ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি জয়ের পর থেকেই সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের দিকে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। সম্প্রতি দলের অন্যতম তারকা ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আর্জেন্টাইনরা কতটা আত্মবিশ্বাসী এবং তাদের লক্ষ্য কতটা সুদূরপ্রসারী।
আস্থার ভিত্তি: ধারাবাহিক সাফল্য
লাউতারো মার্তিনেজ এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন, “আমরা বিশ্বকাপ জয়ের শীর্ষ তিন দাবিদারের একটি।” এই আত্মবিশ্বাস কেবল কথার কথা নয়, বরং গত কয়েক বছরের অসাধারণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফসল। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা এবং একই বছরে কাতারের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়—এই তিন বড় ট্রফি প্রমাণ করে যে আর্জেন্টিনা ফুটবল বর্তমানে এক স্বর্ণযুগ পার করছে। স্কালোনি বাহিনীর এই সাফল্যের ধারা তাদের খেলোয়াড়দের মনে এক অজেয় মানসিকতা তৈরি করেছে।
লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের অন্যতম মূল স্তম্ভ লাউতারো মার্তিনেজ। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পথে তিনি নিজে যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি ২০২৬ আসরেও তিনি হতে চলেছেন লিওনেল মেসির প্রধান সারথি। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত। মাঠে মেসির কৌশলগত নেতৃত্ব এবং সতীর্থদের প্রতি তার আস্থা আর্জেন্টিনাকে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে রেখেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের এক রাজকীয় সমাপ্তি, যেখানে তিনি চাইবেন আরও একটি শিরোপা আর্জেন্টিনার ঝুলিতে যোগ করতে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ঝুঁকি ও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার নেপথ্য সমীকরণ
লিওনেল স্কালোনির ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস
আর্জেন্টিনার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান, খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ম্যাচের প্রয়োজনে কৌশল পরিবর্তনের ক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি এমন একটি দল গড়ে তুলেছেন যেখানে তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার নিখুঁত সংমিশ্রণ রয়েছে। ইমিয়ানো মার্টিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজের মতো তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছেন যে, মেসি-পরবর্তী সময়েও আর্জেন্টিনার ফুটবল নিরাপদ হাতেই থাকবে।
২০২৬ বিশ্বকাপ: নতুন চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি
অবশ্য ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফরম্যাটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ৩২টির পরিবর্তে ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতা অনেক বাড়বে। অনেক নতুন দল এবং শক্তির ভারসাম্যহীনতা থাকলেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা তাদের প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছে না। উত্তর আমেরিকার মাঠগুলো এবং সেখানকার জলবায়ু ও পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কেন আর্জেন্টিনা শীর্ষ দাবিদার?
বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটি কেবল প্রতিভার বিচারে এগিয়ে নেই, বরং তারা দলের রসায়ন বা ‘টিম স্পিরিট’ বজায় রাখতে দারুণ দক্ষ। তাদের রক্ষণে ইস্পাত-কঠিন দেয়াল এবং মধ্যমাঠে বল পজেশন ধরে রাখার ক্ষমতার কারণে প্রতিপক্ষ দলগুলো তাদের সামনে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই ধারাবাহিকতা এবং জয়ের ক্ষুধাই তাদের ২০২৬ সালের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ফেবারিট করে তুলেছে।
উপসংহার: বিশ্বকাপ ধরে রাখা ফুটবলের ইতিহাসে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে শেষবার এই কীর্তি দেখিয়েছিল। আর্জেন্টিনা কি পারবে দীর্ঘ ৬৪ বছরের এই খরা কাটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে? ভক্তদের সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। তবে বর্তমান আত্মবিশ্বাস আর দলীয় সংহতি দেখে এটি নির্দ্বিধায় বলা যায়, আর্জেন্টিনা শিরোপার জন্য মরিয়া হয়েই মাঠে নামছে। ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ এই বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।