স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করলেন জামাতা

স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করলেন জামাতা
ছবি: সংগৃহীত

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সামাজিক মূল্যবোধ, সম্পর্কের চিরায়ত সমীকরণ এবং পারিবারিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। রক্তের সম্পর্ক না হলেও সমাজে শাশুড়ি ও জামাতার পবিত্র সম্পর্ককে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়। কিন্তু সমস্ত সামাজিক ও পারিবারিক রীতিনীতি ভেঙে নিজের আপন স্ত্রীকে বিধিমোতাবেক তালাক বা ডিভোর্স দিয়ে সরাসরি শাশুড়িকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন এক যুবক। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদের এই বিচিত্র সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাতের আকবরপুর এলাকায় এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছে। গত রোববার এই নবদম্পতির আদালত প্রাঙ্গণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হারে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো আলোচনা ও সমালোচনার বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

যেভাবে শুরু সম্পর্কের রূপান্তর ও আইনি বিয়ে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া'-র এক বিশেষ প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, কানপুরের ওই যুবক কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবেই বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আর এই ঘন ঘন যাতায়াত এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মেলামেশার একপর্যায়ে তিনি নিজের স্ত্রীর চেয়ে তার শাশুড়ির প্রতি এক ধরনের মানসিক ও শারীরিক আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: আর কখনো গানে ফিরবেন না রিংকু: নিভৃতে কাটছে দিন

আর কখনো গানে ফিরবেন না রিংকু: নিভৃতে কাটছে দিন

ধীরে ধীরে জামাতার এই ভালো লাগা বা আকর্ষণের কথা শাশুড়িও বুঝতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অনৈতিক ও অপ্রচলিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে শাশুড়ির পক্ষ থেকেও কোনো আপত্তি বা প্রতিরোধ ছিল না; বরং তিনিও জামাতার ভালোবাসার আহ্বানে সমানভাবে সাড়া দেন। একপর্যায়ে তাদের এই গোপন সম্পর্ক দুই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে সংসারে তীব্র অশান্তি ও কলহের সৃষ্টি হয়। কিন্তু লোকনিন্দা, পরিবারের তীব্র বিরোধিতা, সমাজের সমালোচনা বা পরনিন্দা—কোনো কিছুর তোয়াক্কাই করেননি এই যুগল। নিজের ভালোবাসাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে ওই যুবক প্রথমে তার বর্তমান স্ত্রীকে আইনি উপায়ে তালাক দেন। এরপর কোনো বাধা-বিপত্তিকে পরোয়া না করে শাশুড়িকে সাথে নিয়ে সরাসরি স্থানীয় আদালতে গিয়ে আইনি নথিপত্রে সই করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করেন।

আদালত চত্বরের ভাইরাল ভিডিও ও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, কানপুরের আকবরপুর আদালত প্রাঙ্গণে ওই যুবক এবং তার প্রাক্তন শাশুড়ি (যিনি এখন তার বর্তমান স্ত্রী) পাশাপাশি অত্যন্ত উৎফুল্ল চিত্তে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের দুজনের হাতেই রয়েছে বিয়ের আইনি বৈধ নথিপত্র এবং দুজনের গলাতেই শোভা পাচ্ছে রজনীগন্ধা ও গোলাপের মালা।

ভিডিওতে তারা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দেশবাসী এবং সমাজকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে এই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সমাজ যেন তাদের এই অসম ও নতুন সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় এবং আইনি স্বীকৃতি দেয়, ভিডিওতে তারা সেই আহ্বানও জানান। এই ভিডিওটি আপলোড হওয়ার সাথে সাথেই তা লাখ লাখ মানুষের নজরে আসে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এই ঘটনাকে সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

আইনি অবস্থান ও প্রশাসনের বক্তব্য

জামাতা ও শাশুড়ির এই অসম এবং বিচিত্র বিয়ে নিয়ে অনলাইন দুনিয়া ও স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ এবং সমালোচনা সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পক্ষের কাছ থেকেই স্থানীয় থানায় কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পুলিশি অভিযোগ দায়ের করার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু দুজন ব্যক্তিই প্রাপ্তবয়স্ক এবং ভারতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ডিভোর্সের পর পারস্পরিক সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, তাই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পুলিশের এখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কম। তবে এই ঘটনাটি নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের দিক থেকে ভারতের সমাজব্যবস্থায় এক বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে এখনো চর্চা চলছে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন