শাহজাদপুরে পরিবেশ দূষণের দায়ে যমুনা টেক্সটাইলকে জরিমানা ও ইটিপি সংস্কারের নির্দেশ

শাহজাদপুরে পরিবেশ দূষণের দায়ে যমুনা টেক্সটাইলকে জরিমানা ও ইটিপি সংস্কারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পরিবেশ ধ্বংস ও দূষণ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এর ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অপরিশোধিত বর্জ্য অপসারণের দায়ে একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প কারখানাকে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় কারখানার বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কারের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই সাঁড়াশি অভিযানে এলাকার অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যেও ব্যাপক সতর্কতা ও নড়েচড়ে বসার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন: পাবনার বেড়ায় বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে নকল দুধ উৎপাদনের দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরবেলা শাহজাদপুর উপজেলার অন্তর্গত গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোপনীয় তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শাহজাদপুর উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফরিদুল ইসলাম। অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ শাহিন আলম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম।

অভিযান শেষে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম সংবাদমাধ্যমকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, ওই কারখানায় প্রতিদিন যে পরিমাণ তরল বর্জ্য উৎপাদিত হয়, সে তুলনায় সেখানে স্থাপিত ইটিপি বা বর্জ্য পরিশোধনাগারের ধারণক্ষমতা ও কার্যকারিতা অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে আইন অমান্য করে বিভিন্ন উপায়ে অপরিশোধিত ক্ষতিকর তরল বর্জ্য সরাসরি প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্গমন করা হচ্ছিল। এর ফলে আশপাশের পরিবেশ, জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এই অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় কারখানাটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে মেসের ঘরে ঢুকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা

পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের যৌথ এই অভিযানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম ধরা পড়ে। কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিবেশের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে গোপনে একটি বাইপাস লাইন ব্যবহার করে সরাসরি তরল বর্জ্য বাইরে ফেলে আসছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সেই অবৈধ বাইপাস লাইনটি সম্পূর্ণ অপসারণ করে দেয়। এছাড়া আগামী চার মাসের মধ্যে কারখানার বর্তমান ইটিপি প্ল্যান্টটি যথাযথভাবে বর্ধিতকরণ, আধুনিকীকরণ ও সম্পূর্ণ কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামাও গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত চার মাসের মধ্যে যদি ইটিপি সংস্কার ও কার্যকর করার শর্ত ভঙ্গ করা হয়, তবে ওই কারখানার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের নিয়মিত অভিযান ও কড়া নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল এই অভিযানে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে।

এস.এইচ

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন