চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটায় শ্রমিকদের আমরণ অনশন

চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটায় শ্রমিকদের আমরণ অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী সমবায় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড বা মিল্ক ভিটা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ডেইরি শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের পেশাগত অধিকার, ন্যায্য পাওনা এবং কর্মসংস্থানের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অসন্তোষ ও জটিলতার উদ্ভব হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঘাবাড়ী ঘাট এলাকায় অবস্থিত মিল্ক ভিটা কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই এবং চাকরিচ্যুতির এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিজেদের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার করা এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাঁচজন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও কর্মচারী কারখানার প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: বাঘাবাড়ী ঘাট ট্যাংকলরী শ্রমিক সমবায় সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন, নতুন কমিটি গঠিত

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি এবং শ্রমিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের শনিবার সকাল ৯ ঘটিকায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী ঘাট দুধ কারখানার প্রধান ফটকসংলগ্ন উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এই আমরণ অনশন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড তথা মিল্ক ভিটার বিভিন্ন বিভাগের অধীন থেকে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হওয়া পাঁচজন শ্রমিক ও কর্মচারী যৌথভাবে এই কঠোর অনশন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। অনশনরত শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি আদায়ের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করেন। এ সময় তাদের প্রধান স্লোগান ছিল—চাকরি চাই—ছাঁটাই নয়!

এই অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং ভুক্তভোগী হিসেবে চাকরিচ্যুত হওয়া পাঁচজন শ্রমিক ও কর্মচারীর নাম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা হলেন—মো. সোহেল রানা, মো. শাহিন আলম, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ এবং মো. রবিউল ইসলাম। আন্দোলনরত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের কাছে তাদের দীর্ঘ সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয় যে, তারা প্রত্যেকেই বিগত ১৭ থেকে ২২ বছর ধরে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে এই কারখানায় নিরলসভাবে চাকরি করে আসছেন। কারখানার উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় উৎসর্গ করেছেন। অথচ সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য এবং আইনগত অধিকার আদায়ের লক্ষে যখন তারা একটি যৌক্তিক আন্দোলন পরিচালনা করেন, ঠিক তার পরপরই কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ৩ জন গ্রেপ্তার

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা গভীর ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে অভিযোগ করে জানান যে, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সেই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে তাদের পাঁচজনকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার বা বরখাস্ত করা হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর হঠাৎ করে এই ধরনের অন্যায় ছাঁটাইয়ের শিকার হওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা এবং জীবনযাত্রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পতিত হয়েছে। অনশনরত শ্রমিকরা দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, জীবিকার তাগিদে এবং নিজেদের শ্রমের সঠিক মর্যাদা রক্ষার জন্যই তারা পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের দীর্ঘদিনের বৈধ চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো উপায় না পেয়ে তারা আমরণ অনশনের মতো চরম ও কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি মানা না হবে, ততক্ষণ এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

চলমান এই অনশন কর্মসূচি এবং শ্রমিকদের সার্বিক দাবি সম্পর্কে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার জন্য বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটার ডি.জি.এম মো. সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের জানান যে, উনারা ঢাকার আন্ডারে চাকরি করেন, উনারা এখানকার না। আরও বলেন- এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে এম.ডি স্যারের সাথে কথা বলুন। দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য খুবই দুঃখজনক বলে মনে করেন আমরন অনশনকারীরা।

এদিকে পাঁচজন অভিজ্ঞ শ্রমিকের এই আমরণ অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাঘাবাড়ী ঘাট মিল্ক ভিটা কারখানা এলাকা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী সমাজ এবং সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে শ্রমিকদের এই দাবি বিবেচনা করে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের মহলের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে অনশনরত শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের বিশেষ নজর রয়েছে।

সূত্র: নিজস্ব প্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন