নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনপদের কর্মসংস্থানে হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্প এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি অঞ্চল ঐতিহ্যগতভাবে দেশের অন্যতম প্রধান তাঁতসমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত। তবে বর্তমান সময়ে নানা প্রতিকূলতা, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বিপণন সংকটের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি এক গভীর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণের লক্ষে এবং স্থানীয় তাঁতি ও কারখানা মালিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নিবিড়ভাবে শোনার উদ্দেশ্যে বেলকুচি অঞ্চলে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
আরও পড়ুন: চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটায় শ্রমিকদের আমরণ অনশন
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার অধীনস্থ ঐতিহ্যবাহী তামাই এলাকার সাতরং শপিং কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এই বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তামাই পাওয়ারলুম অ্যান্ড হ্যান্ডলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা ও কারখানার মালিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সংগঠনের সভাপতি সোলায়মান হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বক্তব্য প্রদান করেন সিরাজগঞ্জ-৫ অর্থাৎ বেলকুচি-চৌহালী আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত স্থানীয় তাঁতি ও কারখানার মালিকরা বেলকুচির ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদন ব্যয়, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং শিল্পটির উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
তাঁতশিল্পের এই সংকট নিরসনে সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধির দাবি জানান তারা। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেন যে, তাঁতশিল্পকে আবারও জাগিয়ে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাঁত কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় কলেজছাত্রকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা
উক্ত মতবিনিময় সভায় বেলকুচি পাওয়ারলুম অ্যান্ড হ্যান্ডলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বৈদ্যনাথ রায়, বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন এবং বেলকুচি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ খান বাবলু, আতিকুল মল্লিক, আলহাজ্ব হাফিজ মাওলানা রাসেল আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল গফুর খান, মো. হযরত আলী বেপারী, গোলাম রাব্বি এবং ক্যাশিয়ার আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য সম্মানিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বেলকুচির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে তাঁতশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংসদ সদস্যের এই আশ্বাসের পর স্থানীয় তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেলকুচির তাঁতশিল্প তার হারানো ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখবে বলে সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।