কামারখন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারী রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে

কামারখন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারী রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে

কামারখন্দ প্রতিনিধি / সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

হাসপাতালকে সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রায়শই চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এমনই এক অত্যন্ত লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক তরুণী নারী রোগীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে। আকস্মিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্রেস্টফিডিং ও এনসিডি কর্নার উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

হাসপাতাল প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরের দিকে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগী ওই নারী রোগীর বয়স একুশ বছর এবং তিনি উপজেলার কাশিয়াহাটা গ্রামের বাসিন্দা শাহদাৎ হোসেনের স্ত্রী। তীব্র শারীরিক অসুস্থতা ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাতের নিস্তব্ধতা কেটে ভোরে যখন পরিবেশ কিছুটা শান্ত ছিল, ঠিক সেই সময়ই এই অনৈতিক আচরণের শিকার হন তিনি।

অভিযুক্ত ওই ওয়ার্ডবয়ের পরিচয় নিশ্চিত করে জানা গেছে যে, তার নাম করিম সরকার (২৯) এবং তিনি কামারখন্দ উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের পুত্র। হাসপাতালে সরাসরি স্থায়ী স্টাফ হিসেবে নয়, বরং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডবয় পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার ভোরে অভিযুক্ত করিম নারী ওয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং রোগীর বিছানার কাছে গিয়ে অসংগত ও অনধিকারচর্চামূলক আচরণ শুরু করেন। ভুক্তভোগীর শারীরিক স্পর্শ এবং আপত্তিকর কার্যক্রমের মাধ্যমে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে বিশেষ অভিযান: ৪৫০ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ ও ধ্বংস

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকে জানান, “ওই ছেলে এসে আমার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। আমার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না, তা জানতে চায়। এসব বলতে বলতে সে আমার কপালে ও গলায় হাত দেয়। পরে পিঠে হাত দিয়ে বুকে হাত দেয় এবং বলে, ‘আপনার প্রচুর জ্বর।’ তখন আমি চিৎকার করি। পরে বিষয়টি নার্সকে জানাই।” আকস্মিক এই শ্লীলতাহানির চেষ্টার মুখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিৎকার করে নিজের মাকে ডাকেন এবং বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত নার্সসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় দ্রুত হাসপাতাল চত্বর ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অন্তর্বিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার পর আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমাদের নারী কর্মীদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারত।” এদিকে অপ্রীতিকর এই অভিযোগের বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত গণমাধ্যমকে জানান যে, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলেছেন এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় করিম সরকার আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জরুরি প্রশাসনিক সভায় ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের মতো একটি জনস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে রোগীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন