রায়গঞ্জে বিশেষ অভিযান: ৪৫০ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ ও ধ্বংস

রায়গঞ্জে বিশেষ অভিযান: ৪৫০ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ ও ধ্বংস

রায়গঞ্জ প্রতিনিধি / সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দেশের সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রক্রিয়ায় ভেজাল মিশিয়ে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছেন। এর মধ্যে চিংড়ির ওজন কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধির অসৎ উদ্দেশ্যে শরীরে জেলি পুশ করার মতো জঘন্য অপরাধ দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের প্রতারণামূলক ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা এলাকার কুতুবের চর মৎস্য আড়তে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর, রায়গঞ্জের যৌথ উদ্যোগে এই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ভেজাল চিংড়ি মাছের সন্ধান মেলে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই আড়ত তল্লাশি করে জেলি পুশ করা প্রায় সাড়ে চার শ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়।

অভিযান চলাকালীন সময়ে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সিরাজগঞ্জ জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান। ভেজাল বিরোধী এই কঠোর পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “জেলি পুশ করা চিংড়ি বিক্রি ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং মাছের বাজারে অনিয়ম বন্ধে মৎস্য অধিদপ্তরের তদারকি অব্যাহত থাকবে।” তাঁর এই সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের আপসহীন মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণকারী রায়গঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, “অভিযানে প্রায় ৪৫০ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা চিংড়িগুলো ধ্বংস করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।” স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করা এ ধরনের ভেজাল খাদ্যের বিস্তার রোধে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ক্রেতারা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভেজালবিরোধী এই বিশেষ অভিযান কেবল একটি নির্দিষ্ট বাজারে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলার প্রতিটি মাছের আড়ত ও খুচরা বাজারে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অসাধু ব্যবসায়ীদের এই ধরনের প্রতারণা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, বরং মানবদেহের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অসাধু চক্রকে নির্মূল করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষ ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: ফরিদপুর মেডিকেলে ট্রলি না পেয়ে কোলে অক্সিজেন নিয়ে ছোটাছুটি, পথেই শিশুর মৃত্যু

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন