বেলকুচিতে নিখোঁজের তিন দিন পর কলাবাগান থেকে অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার, ভ্যান উধাও

বেলকুচিতে নিখোঁজের তিন দিন পর কলাবাগান থেকে অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার, ভ্যান উধাও

বেলকুচি প্রতিনিধি / সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তার বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। সুনির্দিষ্ট জীবিকার তাগিদে সড়কে বের হওয়া কর্মজীবী মানুষ প্রায়ই পরিকল্পিত ছিনতাই ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এমনই এক হৃদয়বিদারক ও রহস্যজনক ঘটনার অবতারণা হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায়, যেখানে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ তিন দিন পর এক প্রবীণ অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের পর তার ব্যবহৃত অটোভ্যানটি দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য নিজাম উদ্দীনের পিতার ইন্তেকাল ও জানাজা সম্পন্ন

থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার দুপুর বারোটার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর এলাকার তিন মাথার মোড়ের সামান্য দূরবর্তী একটি কলাবাগানের ভেতর থেকে ওই চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহটি আংশিক মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ছিল, যা দেখে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত অটোভ্যান চালকের নাম আব্দুর রাজ্জাক, যার বয়স আনুমানিক পঞ্চাশ বছর। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ ইউনিয়নের সায়দাবাদ পুনর্বাসন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁর প্রয়াত পিতার নাম হারু শেখ।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিবরণে জানা গেছে যে, গত মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর প্রতিদিনের ন্যায় জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের অটোভ্যানটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। এরপর থেকেই তাঁর কোনো ধরনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না এবং পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে হন্যে হয়ে খুঁজেও তাঁর কোনো হদিশ মেলাতে পারেননি। অবশেষে শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন সমেশপুর এলাকার ওই কলাবাগানের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বেলকুচি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে বিক্ষোভের পূর্বে বিমান থেকে ককোরোচ নেতাদের আটক, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান

ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর বেলকুচি থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল হক এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে নিহতের পুত্র মো. রাসেল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকৃত মরদেহটি তাঁর নিখোঁজ পিতা আব্দুর রাজ্জাকের বলে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু (বিপিএম-বার) নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের লাশের পাশ থেকে একটি প্লাস্টিকের দড়ি এবং তাঁর ব্যবহৃত একটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান যে, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজ্জাকের সঙ্গে থাকা মূল্যবান অটোভ্যানটি ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং উধাও হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধারে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: শাহজাদপুর প্রেসক্লাবে জ্ঞানচর্চা ও পেশাগত উৎকর্ষ বাড়াতে নতুন লাইব্রেরি উদ্বোধন

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন