আন্তর্জাতিক ডেস্ক / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও বিভিন্ন দলের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতি ও নির্বাচন সংক্রান্ত নানা অসংগতির বিরুদ্ধে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর দমনপীড়নের ঘটনা সামনে এসেছে।
নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আটকের ঘটনা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার অজুহাতে একের পর এক ধরপাকড় চালানো হলেও বিরোধী পক্ষ একে বাকস্বাধীনতা হরণের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছে।
আরও পড়ুন: ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের পর মসজিদের সামনে মোনাজাত ধরে বিচার চেয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সূত্রে জানা যায় যে, গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যন্ত নাটকীয় কায়দায় এক অভিযান পরিচালনা করে। বিমানটি অবতরণের পর কেবিন ও প্রাঙ্গণ থেকে ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের জোরপূর্বক আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকের ওই সংকটময় মুহূর্তে বিমান থেকে নামার সময় দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাদের এই প্রতিবাদের দৃশ্য ও স্লোগানের আওয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে বাঁচার আকুতি, কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
দিল্লির যন্তর মন্তর অভিমুখী এই বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সারাদেশ থেকে সমবেত হওয়া অন্যান্য বিরোধী দলীয় শীর্ষ নেতাদের ওপরও পুলিশের কঠোর নজরদারি ও নির্বিচার আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তর এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং বিশিষ্ট বাম নেতা এমএ বেবি, এমভি গোবিন্দন মাস্টার, কে কে শৈলজা ও বৃন্দা কারাটসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সিপিআই(এম) নেতাকে পুলিশ জোরপূর্বক আটক করে হেফাজতে নিয়েছে বলে দলটির উচ্চপর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা নন, বরং প্রতিবাদস্থলের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি থেকে বেশ কয়েকজন স্বাধীন সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কঠোর হাতে পঙ্গু করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ককোরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। দলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বিমান অবতরণের পরপরই শীর্ষ নেতাদের এই ধরনের আকস্মিক আটক মূলত সরকারের একটি পূর্বপরিকল্পিত ও হীন রাজনৈতিক চক্রান্ত। চলাচলের স্বাধীনতার এই নগ্ন লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিজিপি অবিলম্বে সকল আটক নেতার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
অন্যদিকে, এই নির্বিচার ধরপাকড়ের কঠোর সমালোচনা করে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় বর্তমান অবস্থাকে দেশের ইতিহাসের জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি বলে অভিহিত করেছেন। দেশে বর্তমানে চরম একনায়কতন্ত্র চলছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।