আন্তর্জাতিক ডেস্ক / দিগন্ত বাংলা নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে সংঘাতময় পরিস্থিতি দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। দেশটির সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের মধ্যকার চলমান লড়াইয়ে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের তথ্য সামনে এসেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হুথি নিয়ন্ত্রित লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর আড়াই হাজারের অধিক বিমান ও সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। এই লাগাতার তীব্র আক্রমণের ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যোদ্ধা হতাহত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, যা বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে বিক্ষোভের পূর্বে বিমান থেকে ককোরোচ নেতাদের আটক, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির মাধ্যমে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান ও অভিযানের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত চব্বিশ ঘণ্টার নির্দিষ্ট সময়সীমায় হুথি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে দুই হাজার সাতশ ৫০টিরও বেশি বিমান ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে সরকারি বাহিনী। এই তীব্র ও ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে হুথিদের সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের প্রায় এক হাজার চারশ জনেরও বেশি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে ওই বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়।
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ‘ডন অব ইয়েমেন’ বা ইয়েমেনের ভোর নামক একটি বিশেষ ও সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযানের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের মূল কৌশলগত লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে হুথিদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে গভীরে অবস্থিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, কমান্ড সেন্টার এবং সরবরাহ লাইনগুলো ধ্বংস করা। সরকারি বাহিনী এই লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং হুথিদের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে তিনি আরও বলেন যে, সরকারি বাহিনীর স্থলবাহিনী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে হুথিদের শক্ত প্রতিরোধ ব্যূহ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অবস্থান পুনর্দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পাশাপাশি, এই তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যগুলো সফলভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তাদের অগ্রগামী দলগুলো। পূর্বনির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশলগত রূপরেখা অনুসরণ করে এই অভিযান আগামীতেও যথাযথভাবে অব্যাহত রাখা হবে বলে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার ইয়েমেনের সরকারি পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের এই বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দেশের দীর্ঘকাল ধরে ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের অবৈধ নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই সামরিক অভিযানের প্রধান ও ঘোষিত লক্ষ্য। তবে চলমান এই হামলা এবং হুথি যোদ্ধাদের বড় একটি অংশের হতাহত হওয়ার বিষয়ে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, তা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা সূত্র দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: চক্ষু স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।