ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে বিধবা নারীর টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ

ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে বিধবা নারীর টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ

ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি / ময়মনসিংহ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দেশের বিভিন্ন জনপদে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বা কল্যাণমূলক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণার নানা অপচেষ্টা প্রায়শই লক্ষ্য করা যায়। তেমনি এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায়। অসহায় ও দরিদ্র এক বিধবা নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রীয় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার ব্যক্তিগত গোপনীয় কাগজপত্র ও টিপসই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই টিপসই ও নথিপত্র সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবহার করে ওই নারীর অজান্তে একটি ভুয়া বিয়ের কাবিননামা তৈরি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা স্থানীয় এলাকজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন:রায়গঞ্জে ভোরে কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মারধর ও টাকা ছিনতাই

ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম আছিয়া বেগম, যার বয়স আনুমানিক তেতাল্লিশ বছর। তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে, ঘটনার প্রায় দেড় মাস পূর্বে স্থানীয় একজন রাজনৈতিক কর্মী ও জামায়াতকর্মী হিসেবে পরিচিত আবদুস ছাত্তার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে একটি ফ্যামিলি কার্ড বা পরিবারভিত্তিক সহায়তা কার্ড বিনামূল্যে তৈরি করে দেওয়ার লোভনীয় ও আশ্বস্তকর প্রস্তাব দেন। সরকারি সুবিধার এই আশায় বিশ্বাস স্থাপন করে আছিয়া বেগম তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং রঙিন ছবি ওই ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় একটি দোকানে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সাদা কাগজ ও দলিলে জোরপূর্বক বা বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে টিপসই নেওয়া হয়।

হতদরিদ্র আছিয়া বেগমের সরল মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে এই কাগজপত্রের অপব্যবহার হতে পারে। কিন্তু ঘটনার মাত্র কয়েক দিন পর আকস্মিকভাবে তিনি জানতে পারেন যে, পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি আবদুল কুদ্দুছের সঙ্গে তার নাম যুক্ত করে একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও ভুয়া বিয়ের কাবিননামা দলিল তৈরি করা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো তিনি জীবনের কোনো পর্যায়ে এমন কোনো বিবাহ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি, কোনো কাজী বা নিকাহ নিবন্ধকের সামনে উপস্থিত হননি এবং এ ধরনের কোনো অনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের বিন্দুমাত্র সম্মতিও প্রদান করেননি। সম্পূর্ণ প্রতারণার আশ্রয়ে তার টিপসই জালিয়াতি করে এই ভুয়া বৈবাহিক দলিল সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

এদিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক्रিয়ার সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। এই ভুয়া কাবিননামায় যার নাম ও সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছে, সেই সংশ্লিষ্ট নিকাহ নিবন্ধক বা কাজী গোলাম মোস্তফা সম্পূর্ণ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এই কাবিননামাটিকে সম্পূর্ণ জাল ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই কথিত কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম বা স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের অন্যতম একজন সাইফুল ইসলামও গণমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই ধরনের কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন না বা স্বাক্ষর দেননি।

একজন অসহায় ও সহায়সম্বলহীন নারী যখন রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক সহযোগিতার আশায় বুক বাঁধেন, তখন এমন বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে নাড়া দেয়। ব্যক্তিগত অনুমতি কিংবা উপস্থিতি ব্যতিরেকে একজনের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য, পরিচয়পত্র এবং টিপসই অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা ভুয়া দলিল তৈরিতে ব্যবহার করা একধরনের গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত অপরাধীরা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এমন জালিয়াতি করা হয়েছে, তা নিরপেক্ষ ও গভীরভাবে তদন্ত করে বের করা অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম এই পুরো জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে খুন, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার ২০টিরও বেশি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছালাম গ্রেপ্তার

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন