ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের পর মসজিদের সামনে মোনাজাত ধরে বিচার চেয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের পর মসজিদের সামনে মোনাজাত ধরে বিচার চেয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন জনপদে তুচ্ছ ঘটনা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই সামাজিক সংবেদনশীলতাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায়। 

জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও তার জেরে সংঘটিত মারধরের ঘটনার পর মসজিদের সামনে হাত তুলে আল্লাহর দরবারে বিচার প্রার্থনা করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ড. এম এ মতিন স্মৃতি পানসি নৌকা বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন বন্যা কান্দি

পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী দক্ষিণপাড়া হাজিবাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ওই প্রবীণ নারীর নাম আদালত বেগম (৬০), যিনি ওই এলাকার রেজ্জাক মিয়ার সহধর্মিণী ছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার হাজিবাড়িতে রেজ্জাক মিয়া, আব্দুল খালেক ও আব্দুর রশীদ নামের তিন ভাইয়ের মোট ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। আইনগত ও সমান বণ্টন অনুযায়ী প্রত্যেকে তিন শতাংশ করে জমির অংশীদার হওয়ার কথা থাকলেও অপর দুই ভাইয়ের সন্তানেরা সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জমির সঠিক বণ্টন না করে এককভাবে দখল করে রাখার এই জবরদস্তির জেরে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা ও বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে এই জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসে। 

কিন্তু পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল ত্যাগ করার ঠিক পরপরই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নিহত আদালত বেগমের সঙ্গে তার দেবরের ছেলে শামসুল আমিন ও সাইফুল মিয়াসহ কয়েকজন প্রতিপক্ষের লোকজনের তীব্র কথা-কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে ভোরে কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মারধর ও টাকা ছিনতাই

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের শিকার হয়ে চরম শারীরিক ও মানসিক উৎপীড়নের মুখে পড়ে আদালত বেগম দ্রুত দৌড়ে বাড়ির পাশেই অবস্থিত একটি মসজিদের সামনে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি আকাশের দিকে হাত তুলে মোনাজাত ধরে মহান আল্লাহর দরবারে পুরো ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিচার প্রার্থনা করেন। 

মোনাজাত শেষ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে মারধরের সরাসরি আঘাতে নাকি অতিরিক্ত মানসিক আঘাত ও আতঙ্কে এই মৃত্যু ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের পুত্র শাহিন মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের চাচাতো ভাই শামসুল আমিন ও সাইফুল মিয়ারা জমি নিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান। 

এদিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান যে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ওই নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে বিএনপির দুই সাবেক সভাপতির সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন