মোদি সরকারের পতন অনিবার্য, দাবি রাহুল গান্ধীর: উত্তাল ভারতের রাজনীতি

মোদি সরকারের পতন অনিবার্য, দাবি রাহুল গান্ধীর: উত্তাল ভারতের রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংকট ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করেছেন দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখলে এই প্রশাসনের পতন নিশ্চিত এবং এর পরপরই দেশে ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক কাজ শুরু করা হবে।

আরও পড়ুন: বেলকুচিতে নিখোঁজের তিন দিন পর কলাবাগান থেকে অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার, ভ্যান উধাও

সম্প্রতি রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার বিদায় নেবেন, এই সরকারও বিদায় নেবে। এরপর শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ।” এর আগে সংসদের সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সংসদ সদস্যদের বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানান যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনারকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান সংকটটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর মূল শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত রয়েছে এবং এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো বর্তমান সরকারের পরিবর্তন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল পরিমাণ মানুষের নাম কৌশলে বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। এর ফলে দেশের সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অন্য এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত দশ মাসে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্তত চৌদ্দবার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। যার বড় অংশই ছিল ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত।

আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘুড়কা-হঠাৎপাড়া সড়ক পুনর্বাসনকাজের উদ্বোধন

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ এই মতপার্থক্য ও আপত্তিগুলোর জবাবে কমিশন জানিয়েছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং তাদের নির্দেশ আইনসম্মতভাবেই দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও গত দশ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের উদ্যোগ নেয় ককোরোচ জনতা পার্টি। ওই কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ দীপকেও আটক করা হয়েছিল, যিনি পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে রবিবার মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জার। এই দেশ এর আগে এত বড় কাপুরুষ ও দাঙ্গাবাজ দেখেনি।

অন্যদিকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, মোদির আচরণই বলে দিচ্ছে তিনি পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে তাদের এই পদক্ষেপে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা আগামী বারো অক্টোবর দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশনের বিতর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও পতনের আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: ফরিদপুরের সালথায় মুরগি নিয়ে বিরোধের জেরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন