সালথা প্রতিনিধি / ফরিদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক বিরোধ ও তার জেরে সংঘটিত নানা মর্মান্তিক ঘটনা প্রায়ই জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গেছে ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায়। পোষা মুরগির যাতায়াতকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মারধরের জেরে ডালিম বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের টয়লেটে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুর প্রেসক্লাবে জ্ঞানচর্চা ও পেশাগত উৎকর্ষ বাড়াতে নতুন লাইব্রেরি উদ্বোধন
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রাম থেকে নিজ বসতঘরের টয়লেটের ভেতর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ডালিম বেগম পেশায় ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যার স্ত্রী এবং তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ডালিম বেগমের পোষা মুরগি প্রায়ই প্রতিবেশী কামরুল মোল্যার বাড়িতে যাওয়া-আসা করত। এই তুচ্ছ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় এক মাস আগে প্রতিবেশীরা তাঁর দুটি মুরগিকে বিষ প্রয়োগে এবং কয়েকটি মুরগিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত ঘটনার সূত্র ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গত বুধবার বিকেলে অসুস্থ এক প্রতিবেশী বকুল মোল্যাকে দেখতে যাওয়ার সময় কামরুল মোল্যার উঠান দিয়ে যাতায়াত করাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এ সময় কামরুল মোল্যা, তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম এবং ভাতিজা ইমামুল মোল্যা ডালিম বেগমকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করা হয়।
আরও পড়ুন: কামারখন্দে পায়ে পচন ধরা অজ্ঞাত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
নিহতের পরিবারের দাবি, এই হামলার ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডালিম বেগম। কিন্তু থানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির টয়লেটে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের জোরালো দাবি, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করার কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে হত্যা করে পরবর্তীতে নাটক সাজানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কামরুল মোল্যা, কল্পনা বেগম ও ইমামুল মোল্যা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: দিল্লির রাজপথে ভারতের বিরোধী জোটের মহা-বিক্ষোভ, যোগ দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।