দিল্লির রাজপথে ভারতের বিরোধী জোটের মহা-বিক্ষোভ, যোগ দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লির রাজপথে ভারতের বিরোধী জোটের মহা-বিক্ষোভ, যোগ দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা জোরালো দাবিতে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী রাজনৈতিক জোট 'ইন্ডিয়া'র চলমান আন্দোলন আজ এক নতুন ও উত্তপ্ত মাত্রা লাভ করেছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজকের দ্বিতীয় দিনের এই বিশাল রাজপথের বিক্ষোভে সরাসরি অংশ নিতে দিল্লি পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতাদের এমন ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি এবং রাজপথে সরব অবস্থান বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন এখন ভারতীয় জাতীয় রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: পাংশায় প্রবাসীর মৎস্য প্রকল্পে হামলা, কলাগাছ কাটা ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, গ্রেপ্তার ১

এর আগের দিন বুধবার রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিভিন্ন অসংগতি ও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন পরিচালনার সময় চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ওইদিন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। দিনভর দফায় দফায় ধস্তাধস্তি, পুলিশের বাসের চাকা পাংচার হয়ে যাওয়া এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজপথে শুয়ে পড়ার মতো নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের পর গভীর রাতে তাদের পুলিশি হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পূর্বের সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আজ পুরো 'ইন্ডিয়া' জোট আরও বড় পরিসরে ও শক্ত অবস্থানে রাজপথে নেমে আসার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির পরিবেশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের উদ্যোগে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত মধ্যাহ্নভোজ সভার পর বিরোধী নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন। জোটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট গন্তব্য যন্তর মন্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনটি আধুনিক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতিটি বাসে বিভিন্ন দলের নেতাদের সুষম ও সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে অত্যন্ত শৃঙ্খলিত উপায়ে বাসগুলো এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীর অশোক রোডের বিখ্যাত 'শাংরি-লা' হোটেলের নিকটবর্তী এলাকায় শক্ত ব্যারিকেড তৈরি করে সুকৌশলে বাসগুলোর গতিপথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পুলিশি বাধার মুখে পড়ার পরেই ভারতীয় রাজধানীর রাজপথে চরম উত্তেজনা ও সংঘাতপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাধা পেয়ে বাসে অবস্থানরত বিরোধী নেতারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বাস থেকে নেমে সরাসরি রাজপথেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে বসে ও দাঁড়িয়ে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে তীব্র স্লোগান দিয়ে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন। পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে বলপ্রয়োগ করে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নেয় এবং দীর্ঘ সময় বারাখাম্বা রোড থানায় আটকে রাখে। আজকের এই বিশাল বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণ মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাঘাবাড়ী ঘাট মোটর শ্রমিক সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন