নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুমিত। গত শুক্রবার সকালে সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সাধারণ রোগীদের প্রদানকৃত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নে এই পরিদর্শন স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।
আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘুড়কা-হঠাৎপাড়া সড়ক পুনর্বাসনকাজের উদ্বোধন
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবনির্মিত ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত এনসিডি কর্নারের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এনসিডি কর্নার পরিদর্শনের সময় তিনি নিজে ডিজিটাল বিপি মেশিনের সাহায্যে নিজের রক্তচাপ পরিমাপ করেন এবং হাসপাতালে আগত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুমিত সুনির্দিষ্টভাবে বলেন, "অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার কমাতে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এ জন্য এনসিডি কর্নারে সারা বছর ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং রোগীদের নিয়মিত ফলোআপের আওতায় রাখতে হবে।" চিকিৎসকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সঠিক সময়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের সংকট নিরসনে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, "দেশের কোনো হাসপাতালেই আর ওষুধের অভাব হবে না। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে। আশা করি, এ হাসপাতালেও ভবিষ্যতে ওষুধের সংকট থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।" সরকারের এই পদক্ষেপে প্রান্তিক পর্যায়ে দরিদ্র রোগীরা বিনামূল্যে মানসম্মত ওষুধ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শাহজাদপুর উপজেলায় বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৫ হাজার ১৮২ জন রোগী নিয়মিত ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতি মাসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। তবে এর আগে বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত ওষুধের সরবরাহ না থাকার কারণে অনেক রোগীর নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হতো। প্রতিমন্ত্রীর এই নির্দেশনার ফলে ভবিষ্যতে ওষুধের ঘাটতি দূর হবে বলে আশা করা যায়।
উক্ত পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদ রানা। এছাড়া হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় জনস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই পরিদর্শন ও কর্নারের উদ্বোধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: পাবনার বেড়ায় বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে নকল দুধ উৎপাদনের দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।