প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা তীরবর্তী কাজিপুর উপজেলায় কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত রাসায়নিক সার অবৈধভাবে মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার নিরীহ চাষিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে অসদুপায়ে সার পাচার ও কালোবাজারি করার এক গোপন পরিকল্পনা স্থানীয় সচেতন জনগণের সহায়তায় ভেস্তে গেছে। নাটুয়ারপাড়া চরাঞ্চল এলাকায় বেআইনিভাবে স্থানান্তরের সময় ৪৮ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করার পাশাপাশি অনুমতিহীনভাবে এই সার পরিবহনের দায়ে তিন ভ্যানচালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট নয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের নাটুয়ারপাড়া বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ইয়াবা ও হেরোইনসহ নারীসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন। তিনি ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইনের সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘনের দায়ে আটক তিন ভ্যানচালকের প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা করে সর্বমোট নয় হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা ধার্য করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন নাটুয়ারপাড়া গ্রামের মৃত জোহর আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান, উত্তর পানাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জেল হোসেনের ছেলে নেছারুদ্দিন এবং বিলসুন্দর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে মিলন রানা। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কোনো অবৈধ সিন্ডিকেটের নির্দেশে তারা ভাড়ায় এই সার নির্দিষ্ট কোনো গোপন গুদামে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
অভিযানে অংশ নিয়ে কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার শেষ বিকেলে তিনটি ভ্যানে বিপুল পরিমাণ সারের বস্তা বোঝাই করে নাটুয়ারপাড়া হয়ে তেকানি বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। চরাঞ্চলের সংযোগ সড়কে এমন অসঙ্গতিপূর্ণ সার পরিবহন প্রত্যক্ষ করে স্থানীয় কৃষকদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর উপস্থিত জনতা ভ্যান তিনটির গতিরোধ করেন এবং পরিবহনকারীদের কাছে সারের বৈধ মেমো ও অনুমোদনপত্র দেখতে চান। কোনো ধরনের সঠিক প্রমাণপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীরা সারবোঝাই ভ্যান ও চালকদের নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের হাতে তুলে দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সার ও পরিবহনকারীদের নিজেদের সুরক্ষায় নেয়।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের নাসির-টিক্কা হত্যা নিয়ে চ্যানেল এসের সংবাদের বিরুদ্ধে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন
ঘটনার আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিতের পর বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নাটুয়ারপাড়ায় উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই শেষে দণ্ডাদেশ দেন। পরবর্তীতে জব্দকৃত ৪৮ বস্তা ডিএপি সার অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ থেকে অবমুক্ত করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে উন্মুক্তভাবে বিক্রি করা হয়। এতে খোলাবাজারে সারের চড়া মূল্যের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়ে স্থানীয় চাষিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। সার বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত সর্বমোট ৫০ হাজার ৪০০ টাকা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন জানান, কৃষকদের জিম্মি করে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন সদা তৎপর রয়েছে। কাজিপুরের মাটিতে কোনো অবৈধ মজুতদার ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করার যে কোনো অসাধু তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করা হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, চরাঞ্চল কিংবা সমতলে সার নিয়ে যেকোনো কারসাজির বিরুদ্ধে এমন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন কাজিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক ও পুলিশের একটি চৌকস দল। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও কৃষকেরা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা অভিমত প্রকাশ করেন যে, যমুনার চরাঞ্চলে প্রশাসনের এমন কঠোর নজরদারি বজায় থাকলে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং সাধারণ কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন।
সূত্র: কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষি কার্যালয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।