পাবনায় নিখোঁজের সাত দিন পর ডোবা থেকে শিশু কলির বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

পাবনায় নিখোঁজের সাত দিন পর ডোবা থেকে শিশু কলির বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি (১০) নামের এক মর্মান্তিক পরিণতির শিকার শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ডোবার মধ্যে থেকে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংস উপায়ে শিশুটিকে হত্যার পর তার শরীর টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। জনবহুল ও শান্ত এই জনপদে এমন একটি হৃদয়বিদারক ও পশুবৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। শোকস্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী এই নৃশংস ঘটনার সুুষ্ঠু বিচার ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিজ পিতা কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে গিয়েছিল শিশু কলি। বাজার করার সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম শেষ করে পিতার সঙ্গে নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরে আসার পর বাজারের ব্যাগটি মায়ের হাতে তুলে দিয়ে কলি বাড়ির পার্শ্ববর্তী খোলা জায়গায় চলে যায়। এরপর থেকেই সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামলেও শিশুটি নিজ গৃহে ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা চারপাশের বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে হন্যে হয়ে খোঁজখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় দুই শ গজ দূরবর্তী স্থানে শিশুটির পরিহিত জুতো বা স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখতে পান পরিবারের লোকজন। সম্ভাব্য সকল স্থানে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সন্ধান চালিয়েও তার কোনো হদিস না পেয়ে শেষপর্যন্ত শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ডিমের বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

প্রিয় সন্তানকে উদ্ধারের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ও প্রচারণায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়। নিখোঁজ হওয়ার পরদিনগুলোতে সন্তানের সন্ধান না পেয়ে গত মঙ্গলবার পাবনা শহরের প্রধান সড়কে নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা একজোট হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এর ঠিক একদিন পর বুধবার সকালে বাড়ির পাশের ওই নির্দিষ্ট ডোবার পানিতে বস্তাবন্দি একটি সন্দেহজনক প্যাকেট বা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় এলাকাবাসী। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় এবং বস্তাটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকৃত মরদেহটি নিখোঁজ শিশু কামরুন্নাহার কলির বলে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করেন। স্থানীয় জনতার ধারণা, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও ক্ষোভের বশে কোনো দুর্বৃত্তচক্র তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে বস্তায় বন্দি করে এই ডোবায় লুকিয়ে রেখেছিল।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে থানা পুলিশকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সম্ভাব্য ক্লু প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সেই সমস্ত তথ্য নিয়ে আইনগতভাবে যথাযথ বা জোরালো তদন্ত পরিচালিত হয়নি। তাদের প্রবল ধারণা, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এলাকারই কোনো প্রভাবশালী বা পরিচিত কেউ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারে। যদিও নিহতের পিতা কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে স্থানীয় কোনো ব্যক্তির পূর্ব কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না বলে পরিবার দাবি করেছে। এই বিষয়ে শিশুটির পিতা কামাল প্রামাণিক অত্যন্ত শোকাচ্ছন্ন কণ্ঠে ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল-তা জানতে চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসি দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

লোমহর্ষক এই শিশু হত্যার ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত-এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। আশা করছি খুব শিগগির হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে, উদ্ধারকৃত মরদেহটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর আসল কারণ আরও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, দ্রুত সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: পাবনা সদর থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন