সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-সোফায় বসে এমপি’র কর্মসূচি নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-সোফায় বসে এমপি’র কর্মসূচি নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ধর্মীয় পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত মসজিদের ভেতর চেয়ার ও সোফা স্থাপন করে রাজনৈতিক বা জনপরিসরের কোনো কর্মসূচি পালন করা নিয়ে দেশজুড়ে ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রায়শই নানা ধরনের নৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়। পবিত্র এই ইবাদতখানার সম্মান ও গাম্ভীর্য বজায় রাখার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও অনেক সময় আয়োজকদের অসচেতনতা কিংবা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের দৃশ্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার একটি স্থানীয় মসজিদের অভ্যন্তরে ঠিক এমনই একটি দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্র আঙিনায় বসার আধুনিক আসবাবপত্র ব্যবহার করে সভা বা কার্যক্রম পরিচালনার এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সচেতন মহলে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের যুক্তি ও সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসের ডিজিটাল সচেতনতা ক্যাম্পেইন শুরু

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে শনিবার সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার অধীনস্থ চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এই ঘটনা সংঘটিত হয়। সিরাজগঞ্জ-৩ অর্থাৎ রায়গঞ্জ ও তাড়াশ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক উক্ত মসজিদে একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় সভার পরিবেশ ও বসার বিন্যাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও তথ্যে দেখা যায় যে, মসজিদের মূল পবিত্র ফ্লোরের ওপর কার্পেটের পরিবর্তে সুসজ্জিত চেয়ার এবং সোফা বসানো হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অবস্থান করছেন। পবিত্র মসজিদ প্রাঙ্গণে এমন আয়োজন দেখে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও অনলাইনে সক্রিয় নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ধর্মীয় বিধানের প্রতি অবহেলার অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ভর্তি ফরমের নমুনা ছবিতে সিগারেট খাওয়া ব্যক্তির ছবি নিয়ে বিতর্ক

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের নানা চেষ্টা চালানো হলেও গণমাধ্যম বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নানামুখী গুঞ্জন শুরু হলে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে, এমপি'র নিজ ইউনিয়ন চান্দাইকোনার কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিপুল অর্থ বকেয়া রয়েছে। এটি পরিশোধ করতে এমপি’র সহযোগিতা চেয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়। তারা মাদ্রাসা মসজিদের অভ্যন্তরে সোফা, চেয়ার সেট করে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করেছেন। এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ফলে আমরা আপত্তি না করে তাদের ব্যবস্থাপনায় মসজিদে মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করি। এখানে মূলত মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় এই নেতার ভাষ্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়নি, বরং সম্পূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল। মাদ্রাসা ও মসজিদের বিশাল অঙ্কের বকেয়া ব্যয়ভার মেটানোর জন্য এলাকার সংসদ সদস্যের সরাসরি সহায়তা কামনা করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তবে মসজিদ কমিটির ব্যবস্থাপনায় অতিথিদের বসার জন্য সোফা ও চেয়ারের মতো আধুনিক আসবাবপত্র সরাসরি মসজিদের অভ্যন্তরে স্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভিন্নমত রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা এবং ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিশেষে বলা যায় যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভবিষ্যতে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সূত্র: স্থানীয় জনসাধারণ ও মসজিদ কমিটি

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন