প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কাঙ্ক্ষিত মানুষের অপেক্ষার শুভ অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুভ সূচনা হলো ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিন্যস্ত ও আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কার্যক্রমের। উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া সীমান্তঘেঁষা জনপদে উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী প্রত্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই স্বপ্নের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক আজ উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার সাতই সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অর্থাৎ আনুমানিক বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ঠাকুরগাঁও থেকে পীরগঞ্জগামী প্রধান সড়কের পাশে নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী প্রাঙ্গণে এই স্মরণীয় ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই স্থানীয় অধিবাসী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর আমেজ ও পরম আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: চিকিৎসক ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সুধীজন ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রদান করা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক কাজগুলোর দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অবহেলিত এই উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণে অত্যন্ত স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও ভূমি সংক্রান্ত অবকাঠামোগত নকশা প্রণয়নের প্রক্রিয়া সফলতার সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত জমিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠার মূল দৃশ্যমান কাজের শুভ সূচনা ঘটল। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে একটি সর্বাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বাকি অবশিষ্ট সব কাজও অতি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
উচ্চশিক্ষার প্রসারের সাথে এলাকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিজ জেলায় একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পাওয়া পুরো ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য এক বিরাট পরম আনন্দ ও অর্জনের বিষয়। এতদিন এই এলাকার অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চতর ডিগ্রির উদ্দেশ্যে বাধ্য হয়ে দূর-দূরান্তে পাড়ি জমাতে হতো, যা অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল। জেলায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ফলে ঘরের কাছেই শিক্ষার্থীরা মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অপার সুযোগ পাবে। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হবে এবং বিপুল সংখ্যক যুবকের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও সফরকালে বাবাকে নিয়ে ড. শামারুহ মির্জার আবেগঘন বার্তা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার আসল গুণগত মান ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সম্মানিত উপাচার্য মহোদয় নিজে এই এলাকার সন্তান এবং স্থানীয় চাহিদা সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত। তিনি একজন অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ হিসেবে সুপরিচিত। নিজ এলাকার প্রতি ভালোবাসা ও সুগভীর দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শিক্ষার গুণগত মানদণ্ডে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠে রূপান্তর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে বিশ্বাস করা হয়। উপাচার্যের দূরদর্শী নেতৃত্বে এই প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
বক্তব্যের শেষভাগে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ জনগণকে এই নবপ্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজেদের অমূল্য নিজস্ব সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধান অতিথি। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের বহু বছরের আত্মত্যাগ ও দাবির সুফল। তাই এর নিরাপত্তা বিধান, পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা এবং সার্বিক উন্নয়নে এলাকার সকল নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা থাকলে খুব দ্রুতই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় সমগ্র উত্তর জনপদের প্রধান বিদ্যাপিঠে পরিণত হবে।
নিউজ এর সূত্র: জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন, ঠাকুরগাঁও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।