জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বিভিন্ন দেশের ওয়াকআউট

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বিভিন্ন দেশের ওয়াকআউট
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / দিগন্ত বাংলা নিউজ

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে নানা নাটকীয়তা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এই সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ও বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এই অধিবেশনের একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ। তাঁর এই বক্তব্যের সময় বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে একে একে বেরিয়ে যান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে বহু দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদলের এই ওয়াকআউট বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে গভীর রেখাপাত করেছে।

আরও পড়ুন: কঙ্গোয় টাঙ্গানিকা হ্রদে নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৪১

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন জাতিসংঘের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর নির্ধারিত বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রতিবাদ স্বরূপ কক্ষ ত্যাগ করেন বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা। কনভেনশন হলের ভেতরের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে। তবে একদিকে যখন আন্তর্জাতিক মহলের একটি বড় অংশ এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান, ঠিক অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কিছু সমর্থক তাঁকে করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান। নিজ বক্তৃতার সময় কক্ষ ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, তারা ভণ্ড মানবাধিকারকর্মী।

কক্ষ ত্যাগকারী এবং প্রতিবাদী কূটনীতিকদের সরাসরি লক্ষ্য করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, ইরানের স্বৈরশাসকেরা যখন নিরস্ত্র ইরানি নাগরিকদের হত্যা ও পঙ্গু করেছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? এই ধরনের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি উপস্থিত প্রতিনিধিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র রাজনৈতিক ঝাঁঝের কারণে পুরো অধিবেশন কক্ষের ভেতরে এক ধরনের থমথমে ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রধান খবরের শিরোনামে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে চুরি রোধে ‘বাশ-কল’ চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার

বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের অবস্থান আরও কঠোর করে নেতানিয়াহু উপস্থিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও কড়া ভাষায় বলেন, যদি আরও কোনো নৈতিকভাবে কাপুরুষ ব্যক্তি এই কক্ষে থেকে থাকেন, তাহলে দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান। তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যদিও নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ওয়াকআউট করা সমস্ত দেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবুও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে বেশ কিছু দেশের নাম গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

হিন্দুস্তান টাইমসসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে কনভেনশন সেন্টারের ছবি বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে যে, নেতানিয়াহুর ভাষণের ওই নির্দিষ্ট সময়ে সৌদি আরব, সুদান, তিউনিসিয়া, উজবেকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, মন্টেনেগ্রো ও কিরগিজস্তানের আসনগুলো সম্পূর্ণ খালি ছিল। এছাড়া জর্ডান, লিবিয়া, মার্শাল আইল্যান্ডস ও মরিশাসের আসনগুলোও ফাঁকা দেখা যায়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চে চলমান বিভিন্ন সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের প্রতিবাদী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক নতুন ও উত্তপ্ত বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিিয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন