ঢাকা প্রতিনিধি / ঢাকা / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের সাইবার অপরাধ দমন কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে একটি বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র 'সাইবার পুলিশ ইউনিট'। বর্তমান বিশ্বের অপরাধের বহুমুখী পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সনাতন বা গতানুগতিক পুলিশিং ব্যবস্থার চৌহদ্দি পেরিয়ে প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর একটি আধুনিক বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তরের 'হল অব ইন্টেগ্রিটি' কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও সুধী সমাবেশে এই নতুন বিশেষায়িত ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাইবার পুলিশ ইউনিটের শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধনের পর পুলিশ সদর দপ্তরের 'হল অব প্রাইড' কক্ষে একটি বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধের রূপরেখা তুলে ধরে জানান যে, বর্তমান যুগের নিত্যনতুন অপরাধের ধরন মোকাবিলা করতে হলে পুলিশ বাহিনীকে অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তি এবং পেশাদার জ্ঞানের উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে হবে।
নতুন এই স্বতন্ত্র ইউনিটের সাংগঠনিক রূপরেখা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিকভাবে এই সাইবার পুলিশ ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এবং থানা পর্যায়ে ওসির নেতৃত্বে সাইবার সেবা ও তদন্তের জন্য আলাদা সাব-ইন্সপেক্টর, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল পদায়ন করা হচ্ছে।
অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এই বিশেষায়িত ইউনিটের মোট জনবল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯২ জন। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এই ইউনিটে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টের মতো বিশেষায়িত পদে আলাদা আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোতে এসব বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সময়ে মানি লন্ডারিং, সোশ্যাল মিডিয়া অপরাধ, গুজব ও ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম দমনে সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে অতীতের তদন্তের সমন্বয়হীনতা দূর হয়ে একক কাঠামোর অধীনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির উপস্থিত ছিলেন।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে মহাসড়কে অভিযান: ইউপি সদস্যসহ তিনজন গ্রেপ্তার, তিন বোতল মদ উদ্ধার




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।